সব নাগরিকের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ

সব নাগরিকের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ
কানিজ ফাতেমা  © টিডিসি ফটো

আজ ১৬ অক্টোবর। বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ।’ দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তার ব্যত্যয় ঘটেনি বাংলাদেশেও। ব্যাপক জনবহুল এবং দরিদ্র মানুষের এই দেশে নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে সবার এককভাবে এবং সমষ্টিগতভাবে মর্যাদার সাথে মানসম্পন্ন খাবার পাওয়ার ও কেনার অধিকার আজও শতভাগ নিশ্চিত হয়নি। তার উপর এবছর যুক্ত হয়েছে কোভিড-১৯ মহামারী। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা, সম্ভাবনাসহ আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে আনুষঙ্গিক বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মতামত ব্যক্ত করেছেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ এর কো-অর্ডিনেটর কানিজ ফাতেমা। সেই আলাপচারিতার চম্বুক অংশ তুলে ধরছেন— মোঃ রাকিবুল হাসান তামিম 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ব খাদ্য দিবসের গুরুত্ব কতটুকু? 
কানিজ ফাতেমা: কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছরই বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করা হচ্ছে। অবশ্যই বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দিবস আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা খাদ্যের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। শুধু তাই নয় বরং অন্যান্য মানবাধিকার পূরণের জন্যও খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য। খাদ্যের সরবরাহে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিকট দায়বদ্ধ। এটি কোনো দান বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, বরং সমমর্যাদার সাথে সকল মানুষের নিজেদের খাদ্যের সংস্থান করার সামর্থ্য অর্জনের নিশ্চয়তার সাথে যুক্ত একটি বিষয়। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে (১৯৪৮) খাদ্য অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ২৫ এর (১) নং অনুচ্ছেদে খাদ্য অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “প্রত্যেকেরই খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবা এবং বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা, বিধবাকালে, বৃদ্ধাবস্থায় অথবা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত পরিস্থিতিতে জীবিকা অর্জনে অপারগতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অধিকারসহ নিজের ও পরিবারের কল্যাণ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন জীবন ধারণের অধিকার রয়েছে।” পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সালে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১১নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে খাদ্য অধিকারকে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। তাই সহজেই অনুমেয় খাদ্য দিবস আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমি মনে করছি এবছরের খাদ্য দিবস অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশিই গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ। কেননা এবছর করোনা পরিস্থিতি আমাদের এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। শুধুমাত্র আমাদের দেশই নয় বরং পুরো বিশ্বকে একটি বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাংলাদেশে খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের চলমান প্রক্রিয়ায় কিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন? 
কানিজ ফাতেমা: আমি আগেই বলেছি এবারের খাদ্য দিবসে আমাদেরকে একটি কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শুধুমাত্র আমাদের দেশ নয় বরং পুরো বিশ্বই এই বাস্তবতার মুখোমুুখি। কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি আমাদের জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি সুষম খাদ্যাভ্যাস বা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যেই বড় ধরণের প্রভাব ফেলেছে। আমাদের দেশে যারা দৈনিক ২১০০ কিলোক্যালরি খাবার কিনতে পারেনা তাদের দরিদ্র এবং যারা ১৮০০ কিলোক্যালরি খাবারও কিনতে পারেনা তারা অতি দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা যদি সরকারি পরিসংখ্যানের হিসেবেই বলি, তাহলে কোভিড-১৯ সংক্রমণের আগে থেকেই  প্রায় শতকরা ২১ শতাংশের উপরে দরিদ্র মানুষ যারা সুষম খাদ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলো। এটির সংখ্যার হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ। অর্থ্যাৎ দেশের প্রায় পৌণে চার কোটি মানুষ যারা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে পারছেনা। এমন অবস্থায় যখন করোনার সংকট শুরু হলো তখন আমরা খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ থেকে দেশের ৩৭টি জেলায় দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র মানুষের উপর একটি জরিপ চালিয়ে দেখতে পেলাম প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ খাবার কিনতে পারছেনা তাদের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবার কারণে। যদিও এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক। তবে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ এখনো হয়নি। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে এই করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ নতুন করে খাদ্য পুষ্টিহীনতা এবং দারিদ্রতার মধ্যে নিপতিত হয়েছে। এটি আমাদের  জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনি কি মনে করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এটি প্রভাব ফেলবে?
কানিজ ফাতেম: দেখুন যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় দেশের পৌনে চার কোটি মানুষের দৈনিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অনিশ্চিত ছিলো সেখানে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি উতরেছে। যারা ইতোমধ্যেই খাদ্য সংকটে রয়েছে। অর্থ্যাৎ প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে না। এরকম একটা বাস্তবতায় এবছর সারা পৃথিবীতে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। আপনি খেয়াল করবেন এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে –‘Grow, Nourish, Sustain, Together. Our actions are our future’. তারমানে বিষয়টি আমরা এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি যে, পৃথিবীতে খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে, পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে সবাই মিলে। এবং কোভিড বিবেচনায় দুনিয়াব্যাপী যে খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে বিশেষ করে দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষ এই সমস্যার মুখোমুখি বেশি হচ্ছে তাদের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এইক্ষেত্রে যদি আমরা এসব মানুষের পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতকরণ করতে না পারি তবে যে টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে  এবং এসডিজির যে এক নাম্বার লক্ষ্য দারিদ্রের অবসান ও দুই নাম্বার লক্ষ্য ক্ষুধামুক্তি এটা সম্ভব হবে না। এবং আমরা দেখেছি যে এই বাস্তবতায় অর্থ্যাৎ কোভিড কালীন সময়ে সরকারি বেসরকারি নানান সহায়তার পরও দরিদ্র মানুষ কি পরিমাণ খাদ্য সংকটে পড়তে হয়েছে । এদের মধ্যে গর্ভবতী নারী এবং শিশুরা খুবই খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে। এই সংকট কিন্তু এখনো কাটেনি। বিশেষ করে যে পাঁচটি উপাদনের মাধ্যমে খাদ্য অধিকারকে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে সেগুলোর দিকে অর্থ্যাৎ ১. প্রাপ্যতা, ২. স্থিতিশীলতা, ৩. অভিগম্যতা, ৪. স্থায়িত্বশীলতা, ৫. পর্যাপ্ততার দিকে লক্ষ্য করি তবে দেখি যে বাজারে যদি খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহও থাকে তবুও দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের অভাবে তারা তাও কিনতে পারছেনা। এর সাথে আবার আম্ফান এবং আগাম বন্যায় প্রায় সাড়ে ৩লক্ষ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮৩হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ফসল নষ্ট হয়েছে, সবজি নষ্ট হয়েছে এই সব মিলিয়ে বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বাড়ছে। সবমিলিয়ে এসব সংকট বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম না হলে টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমাদের জন্য কঠিন হবে। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ‘খাদ্য’ শব্দটির সাথে সচরাচর পরিচিত হলেও ‘খাদ্য অধিকার’ বিষয়টির সাথে বাংলাদেশের মানুষ এখনো খুব বেশি পরিচিত নয়। আসলে খাদ্য অধিকার বলতে কি বুঝায়?
কানিজ ফাতেমা:  বাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্যকে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে বলা আছে। একই সাথে বাংলাদেশ ১৯৪৮ সালের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশ এবং ১৯৬৬ সালের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও স্বাক্ষরকারী দেশ। এসব চুক্তি এবং সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে খাদ্য হচ্ছে মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। এটা বুঝায় যে মানুষ যে কোন পরিস্থিতিতে তাঁর বেঁচে থাকার জন্য, কর্মক্ষম জীবনের জন্য সকল সময়ে যে কোন পরিস্থিতিতে সেটা মহামারী হোক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ  হোক সকল পরিস্থিতিতে খাদ্য পাওয়া হচ্ছে মানুষের অধিকার। এই বিষয়টি নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। যে কোন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বা যাদের কাজ করার সক্ষমতা নেই তাদের নাগরিকের মর্যাদা যেহেতু রাষ্ট্র দিচ্ছে সে হিসেবে রাষ্ট্রের দায়িত্বই হচ্ছে তাকে খাদ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। কারণ  এই অধিকার দেবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নাগরিকের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খাদ্য অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক অলিভিয়ের দে শুটার খাদ্য অধিকার সম্পর্কে বলেন, “প্রাথমিকভাবে খাদ্য অধিকার বলতে জরুরী অবস্থায় খাদ্যের জোগান বোঝায় না। আইনী কাঠামো ও কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাদ্যের অধিকার বাস্তবায়ন অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার অধিকার বুঝায়।”

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনি বললেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে বর্তমানে দেশে ব্যাপকহারে কৃষি জমি বিনষ্ট হচ্ছে এক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি জমি সম্পর্ক রয়েছে কি?
কানিজ ফাতেমা: দেখুন বাংলাদেশ এমনিতেই খুব জনবহুল দেশ। জনসংখ্যার ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এক্ষেত্রে কৃষির পাশাপাশি শিল্প কারখানাও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে  শিল্প কারখানা নির্মাণে আমরা স্বাভাবিক নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করছিনা। ভূমির ব্যবহার, ভূমি বন্টন যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারি না বলেই আবাদি জমি আজ হুমকির মুখোমুখি। কোনটা কৃষি জমি হবে কোনটা শিল্পের জন্য ব্যবহৃত হবে সেটি আইন করা থাকলেও এর বাস্তবায়ন নেই। তিন ফসলী বা দুই ফসলী এমনকি এক ফসলী জমিতেও শিল্পকারখানা নির্মাণ করা উচিত নয়। কিন্তু এসব যথাযথভাবে মনিটরিং করা হয় না বল অবাধে কৃষি জমিতে কলকারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। যা আামাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধার সৃষ্টি করবে বলে মনে করছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বাংলাদেশে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন কেন প্রয়োজন? 
কানিজ ফাতেমা: বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেশির ভাগ দেশেই ফসলের উৎপাদন কমেছে।বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বৈশ্বিক নানান সমস্যার দরুণ বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনও কমবে। ফলে আমাদের সামনের দিনগুলোতে কৃষি ও খাদ্য নিয়ে খুব সাবধানে এগোতে হবে। দেশের বেশির ভাগ মানুষের খাদ্যশক্তির ৮০ শতাংশ জোগান আসে ভাত থেকে। কিন্তু পুষ্টি সমস্যা দূর করতে হলে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিম, দুধ, মাছ ও সবজি পৌঁছে দিতে হবে। দারিদ্র্যের কবলে থাকা জনগোষ্ঠীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সামাজিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এসব কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: খাদ্য অধিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি প্রয়োজন? 
কানিজ ফাতেমা: খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে হলে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে আর এজন্য উষ্ণ আবহাওয়াসহিষ্ণু যেমন- ভুট্টা, বাজরা, জোয়ার, ইত্যাদি ফসলের আবাদ করতে হবে। এ ফসল সম্প্রসারণে কৃষি ক্লাব কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞানের দিক থেকে কৃষি ক্লাব সদস্যরা এগিয়ে থাকে। আর শস্য বহুমুখীকরণ কার্যক্রমে মন্থরতা দূর করতে সহায়ক হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আমরা একেবারেই শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। সবশেষ আপনার কাছে জানতে চাই– খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ কি পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগুচ্ছে? 
কানিজ ফাতেমা: আমরা মানুষের চাহিদার আলোকে খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সামনে অগ্রসর হচ্ছি। আসলে মায়ের গর্ভ থেকে শিশুর জন্ম, বেড়ে ওঠা, যৌবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রাপ্তি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন মানুষের জীবনধারনের পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক বিকাশ ও উৎপাদনশীলতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে। যার কারণে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য সবার জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টি নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হোক। এতে করে দেশের সকল নাগরিকের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত হবার পাশাপাশি এসডিজির এক ও দুই নম্বর লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যথাযথ উদ্যোগ নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।  
কানিজ ফাতেমা: আপনাকেও ধন্যবাদ। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস পরিবারের জন্য শুভ কামনা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ