১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১০

আমার পরিবারের সদস্যও বিসিএসে উত্তীর্ণ হতে পারেনি, সুপারিশের সুযোগ ছিল না

ড. মোহাম্মদ সাদিক  © ফাইল ফটো

বর্তমান প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলোর মধ্যে বিসিএস অন্যতম। বিগত পাঁচ বছরের আবেদন সংখ্যা সেদিকেই ইঙ্গিত করে। ধারাবাহিক ভাবে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় বিসিএসই যেন এখন তরুণদের একমাত্র লক্ষ্য। আর দেশের সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন পিএসসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক।

আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। ১৮ সেপ্টেম্বর তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হবে। সে হিসেবে একদিন আগে ১৭ সেপ্টেম্বর অবসর নিলেন তিনি। ইতোমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইনকে নতুন চেয়ারম্যান করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

বিদায়ের একদিন আগে গতকাল বুধবার ড. মোহাম্মদ সাদিকের সঙ্গে আলাপ করেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের স্টাফ রিপোর্টার। আলাপকালে তিনি পিএসসির সফলতা নিয়ে যেমন কথা বলেছেন, তেমনি তুলে ধরেছেন নিজের সীমাবদ্ধ জীবনের গল্পও।

ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার। কেউ যেন বিসিএস কিংবা পিএসসি নিয়ে কোনো কটু কথা না বলে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করেছি। সরকার আমাকে সুপারিশের ক্ষেত্রে পুরো স্বাধীনতা দিয়েছিল। আমি সেটির যথার্থ ব্যবহার করেছি। এমন কি আমার পরিববারের সদস্যও বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এমনকি আমাদের কমিশনের অনেক সদস্যের সন্তানও বিসিএসে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তারাও কখনো আমাকে সুপারিশ করতে বলেনি।

তিনি আরো বলেন, ‘অবসর নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে নিজের মতো করে সময়টাকে উপভোগ করতে চাই। একটু লেখালেখিও করতে চাই। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে গবেষণার কাজেও নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।’

বিসিএসই দরকার’— তরুণদের এমন মনোভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমাদের যে আর্থ সামাজিক পরিবেশ সে হিসেবে বিসিএস ক্যাডার অত্যন্ত লোভনীয় একটি চাকরি। কারণ, কেউ যদি ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তাহলে তার পাশাপাশি তার পরিবারও অনেক খুশি হয়। তবে বিসিএসই সব না। তরুণদের উদ্দেশ্যে আমি একটি কথাই বলতে চাই; বিসিএসের চেয়ে জীবন অনেক বড়। জীবনে বিসিএসই সব কিছু নয়। কেউ যদি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাও হয় তবুও তার জন্য বিশাল পৃথিবী খোলা। সে অন্য কোথাও ভালো করতে পারে।