০১ জুলাই ২০২৩, ১৪:২৮

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কেটেছে চাঁবিপ্রবিয়ানদের প্রথম ঈদ

চাঁবিপ্রবির তিন শিক্ষার্থী  © টিডিসি ফটো

ঈদ মানেই আনন্দ। প্রতিবছরই এই ঈদকে ঘিরে থাকে নানা আয়োজন, যা হৃদয়ে নিয়ে আসে অনাবিল শান্তি। বিশেষত পরিবারের সাথে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রায় সবাই চেষ্টা করেন ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার। ব্যতিক্রম নন পড়ালেখার সূত্রে পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরাও। নারীর টানে বাড়ি ফিরেন তারাও। ছুটিতে পরিবারের সদস্য, ছোটবেলার প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরাও ছুটে গেছেন নিজ বাড়িতে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা চাঁবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর এটা ছিল প্রথম ঈদ। বন্ধুরা দূরে থাকলেও অনেকেই মুটোফোনে কিংবা অনলাইনে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ঈদের আনন্দ। পাবলিকিয়ান হওয়ার পর নিজেদের প্রথম ঈদ উদযাপনের স্মৃতি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের কাছে তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস এম মানজুরুল ইসলাম সাজিদ


শিক্ষক,হোস্টেলের বন্ধুদের মিস করেছি

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের টিকিটের ঝামেলা মিটিয়ে বাড়ি  ফেরা এক অন্যরকম অনুভূতি। ঈদ মূলত পরিবার, আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব সবার সাথে একত্রিত হওয়ার উৎসব। তবে আমার জীবনে এ বছরের  ঈদ প্রতিবারের চেয়ে একটু  অন্যরকম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হবার পর প্রথম ঈদ। হোস্টেল থেকে নিজের বাসায় অতিথি হিসেবে ঈদ করতে আসা। সকালে ঘুম থেকে উঠে আম্মুর হাতের  রান্না করা খাবার খেয়ে শুরু হল ঈদের দিন। এরপর নতুন জামাকাপড় পড়ে ঈদুল আযহা’র নামাজ আদায়ের পর বাড়ি ফিরে কোরবানির কাজ সম্পন্ন করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বিলি করেছি। সন্ধ্যায়  বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর রাতে পরিবারের সকলকে নিয়ে  বাসার ছাদে ‘বারবিকিউ পার্টি’ এভাবে কেটেছে ঈদের দিন। তবে মিস করেছি শিক্ষক,হোস্টেলের বন্ধুদের। দূরে থাকলেও অনলাইনে যোগাযোগ ছিল সবার সাথে। ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হোক আমাদের সকলের জীবন এবং আগামী দিনের চলার পথ এই প্রত্যাশায় সকলকে বৃষ্টিস্নাত ঈদুল আযহা শুভেচ্ছা,ঈদ মোবারক।

মো. নাঈমুর রহমান নিয়ামুল, শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ

গত বছর ঈদে চিন্তিত ছিলাম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবো কিনা

গত বছর ঈদের এ সময় অনেক চিন্তায় ছিলাম যে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবো কিনা।আবার মানুষের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলাম কোথায় চান্স পেয়েছি? এখন কোথায় পড়ছি ?সেজন্য বাসা থেকে বের হই নি একা ঈদ পালন করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ এই বছরের ঈদে আমার নতুন পরিচয় আমি একজন পাবলিকিয়ান। ঈদে যেহেতু অনেক দূর থেকে আত্মীয়-স্বজন এসেছে সবাইকে সম্মানের সাথে  বলতে পেরেছি আমি আমাদের জেলার চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমার প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনদের আমার প্রতি ভালোবাসার মাত্রা বেশি ছিল।বৃষ্টি কারনে বাইরে যেতে পারেনি তারপর ঈদ ভালো কেটেছে।ক্যাম্পাস খুলে যাবে আবার ক্যাম্পাসে ফিরব সেই অপেক্ষায়  রইলাম।

ফারিহা হক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ


নিজ শহরে পা রাখার সাথে সাথে তীব্র এক শান্তি ও ঈদের আমেজ তৈরি হয়েছিল

শত প্রতিকূলতার মাঝে, সকলের জীবনে,ঈদ বয়ে আনুক নির্মূল আনন্দ। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদ উল আযহা অনুষ্ঠিত হয়েছে,কিন্তু আমার ঈদুল আযহা উদযাপন টা ছিল অন্য রকম কারণ এটা আমার পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাওয়ার পর প্রথম ঈদ। এই ঈদ উদযাপন টা ছিল আমার জন্য সুখময়,আনন্দময়,রোমাঞ্চকর এবং হাস্য উজ্জ্বল। নারীর টানে নিজ শহরে আসার জন্য অধিক আগ্রহে বসেছিলাম কবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হবে। যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলো সেদিন  খুব তড়িঘড়ি করে ব্যস্ত   হয়ে পড়লাম নিজ শহরে পাড়ি জমানোর জন্য। নিজ শহরে পা রাখার সাথে সাথে তীব্র এক শান্তি ও ঈদের আমেজ তৈরি হয়ে গেল এবং দীর্ঘদিন পরে বাড়ি ফিরে নিজ পরিবারের সাথে ঈদ কাটানোর প্রতিটা  মুহূর্তটা ছিল অত্যন্ত আনন্দের, সুখের ও আত্মতৃপ্তির।ভালোই কেটেছে ঈদ। 

রাজু আহমেদ শুভ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ