স্টুডেন্টস ফর এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশন অ্যান্ড ডিসকভারি ও আর্থ’স অ্যান্টসের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশের যুব-নেতৃত্বাধীন পরিবেশ সংগঠন ‘আর্থ’স অ্যান্টস’ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অলাভজনক সংস্থা ‘স্টুডেন্টস ফর এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশন অ্যান্ড ডিসকভারি’ (সিড) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এই ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হলো সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের শিক্ষা, টেকসই সচেতনতা এবং পরিবেশগত সাক্ষরতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে একটি পরিকল্পিত কে-১২ জলবায়ুশিক্ষা উদ্যোগ চালু করে পরিবেশ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করল। এই কৌশলগত জোট সিড-এর বৈশ্বিক দক্ষতা এবং আর্থ’স অ্যান্টসের স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।
এই সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু বিজ্ঞান ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত পাঠ্যক্রম যৌথভাবে উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপটে উপযোগী করা। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় এই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সহজে এবং সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক উপায়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এই অংশীদারিত্বের ফলে গবেষণা, শিক্ষামূলক সম্পদ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার নিয়মিত আদান-প্রদান নিশ্চিত হবে, যা স্থানীয় স্তরে পরিবেশগত শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করবে। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কর্মশালা, সেমিনার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থী সচেতনতা প্রচারণা পরিচালনা করবে। আর্থ’স অ্যান্টস সারা দেশে স্থানীয় সমন্বয় ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে, অন্যদিকে সিড আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম কাঠামো, শিক্ষণ সামগ্রী ও প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে এই চুক্তি শিশু সুরক্ষা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের প্রতিপালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। যৌথভাবে তৈরি করা সমস্ত শিক্ষা সামগ্রী উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ডিজিটাল ও মুদ্রিত উভয় মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সিড উচ্চমানের মুদ্রিত ও ডিজিটাল সচেতনতামূলক সামগ্রী সরবরাহ করবে। নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে আর্থ’স অ্যান্টসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আর্থ’স অ্যান্টস গবেষণা ও শিক্ষা-নেতৃত্বাধীন সম্প্রদায় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসইতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিড-এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক জলবায়ু শিক্ষা মডেলকে বাংলাদেশ জুড়ে স্থানীয়ভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে একীভূত করতে সহায়তা করবে।’
একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে সিড-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সিড সংগঠিত, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিবেশগত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু সাক্ষরতা প্রচার করে। আর্থ’স অ্যান্টস-এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সংস্থাটিকে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রেক্ষাপটে অভিযোজিত জলবায়ু শিক্ষা উদ্যোগ উন্নয়নের প্রতি সমর্থনে সক্ষমতা প্রদান করে।’ তিন বছর মেয়াদী এই অংশীদারিত্ব জলবায়ু শিক্ষা ও যুব ক্ষমতায়নের প্রতি উভয় সংগঠনের গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সিড-এর বৈশ্বিক জ্ঞান এবং আর্থ’স অ্যান্টসের স্থানীয় বাস্তবায়ন ক্ষমতার এই সমন্বয় দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবেশগত কর্মকাণ্ডের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর্থ’স অ্যান্টস বাংলাদেশে পরিবেশ সচেতনতা ও গবেষণায় কাজ করে যাচ্ছে, অন্যদিকে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক সংস্থা সিড বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ শিক্ষা প্রসারে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।