গবেষণায় নবীনদের পথ দেখাচ্ছে ‘গবেষক হতে চাই’

গবেষণা
'গবেষক হতে চাই' প্ল্যাটফর্ম   © লোগো

তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে গবেষণা ও মুক্ত জ্ঞান চর্চার স্থান। এখানেই স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য। স্কুল-কলেজে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ পড়ানো হয় এবং সেগুলো ব্যবহারিক ক্লাসে দেখানো হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি সেই বিষয়ে পুরো পৃথিবীতে কি গবেষণা হচ্ছে তাও জানানো হয়। কিভাবে ওই বিষয়ে আরো বেশি উন্নতি করা যায় এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায় সেটি দেখানোর কথা থাকলেও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গতানুগতিক পদ্ধতিতে চলছে।

বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্য গবেষণা কাজ শুরু করাটা পাহাড়সম শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় রিসোর্সের অভাবে। এছাড়া গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগীতার অভাব, প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে অজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশণার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা, ফান্ডিং-এর প্রতুলতাসহ নানাবিধ সমস্যায় আগ্রহীদের অনেকেই হারিয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ গবেষণাক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে পড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গবেষণা ভীতি কাটিয়ে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে শুরু হয় গবেষণা শেখার উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম “গবেষক হতে চাই: Be Research BD (BRBD)” এর পথচলা। প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তের তরুণ গবেষকদের পথ দেখাচ্ছে।

শুরুর গল্পটা
কিছু কথা মানুষের জীবনকে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে, অনুপ্রেরণা দেয় জীবন যুদ্ধে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াজেদের একটি কথা দারুণ ভাবে দাগ কেটে যায় একজন তরুণ গবেষকের মনে। "বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান" এই কথাটি শিক্ষক ও তরুণ গবেষক মোঃ ছাবির হোসাইন কে নতুন করে ভাবতে শেখায়।তিনি চুয়েটের সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তার প্রচেষ্টায় ১০ এর অধিক গবেষণা প্রবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।তার সহযোগিতায় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রকাশের ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্বেই বিরল। বিষয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আসলে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।এই প্রচেষ্টা থেকেই তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন। ২০২০ সালের ২৩ শে জুন শুরু হয় “গবেষক হতে চাই” প্ল্যাটফর্মের পথচলা। প্ল্যাটফর্মটি যাত্রার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সমস্ত কার্যক্রমে সর্বাত্নক সহযোগিতা করে আসছেন চাইনিজ একাডেমি অফ সাইন্সের পিএইচডি গবেষক ও গ্রীন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার মো. রাশিদুল ইসলাম।

পরবর্তীতে অনেকেই প্ল্যাটফর্মটিতে কাজ করেছেন যাদের মধ্যে অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. নুরুল আমিন, সালমান ফজলে রাব্বি (প্রভাষক, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ), মো. উজ্জ্বল তালুকদার (প্রভাষক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), রুবেল হোসেন (প্রভাষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), মো. রবিউল ইসলাম (বিভাগীয় প্রধান, ইইই বিভাগ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি), মো. ওমর ফারুক জাহাংগীর (টিচিং এসিস্ট্যান্ট, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), মো. মাহমুদুল হাসান মুন (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), জিল্লুর রহমান (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখ উল্লেখ্যযোগ্য।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ১৩৮টি দেশের মধ্যে ১১২তম অবস্থানে রয়েছে৷ বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে; স্কোর মাত্র ষোল দশমিক চার৷ একটি দেশের টেকসই উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের উপরে। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করাই এই প্ল্যাটফর্মের মুখ্য উদ্দেশ্য।

প্ল্যাটফর্মটি তার মুখ্য উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের নিমিত্তে গবেষণা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি; অভিজ্ঞ গবেষক তৈরি; গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগীতা বৃদ্ধি; উচ্চশিক্ষায় (মাস্টার্স ও পিএইচডি) অনুপ্রেরণা প্রদান করাসহ নানাবিধ কাজ করে যাচ্ছে।

প্ল্যাটফর্মটির কার্যাবলী
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে বিশ্ব বিখ্যাত গবেষকগণের পরামর্শে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। পরামর্শকগণের মধ্যে মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইদুর রহমান, আমেরিকার ভার্জিনিয়া টেক-এর অধ্যাপক সাইফুর রহমান, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফয়সাল ইসলাম চৌধুরী অন্যতম। অধ্যাপক সাইদুর রহমান প্ল্যাটফর্মটির উত্তরোত্তর উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবিনার/সেমিনারে লেকচার প্রদান করছেন। প্ল্যাটফর্মটি যে সমস্ত কাজ পরিচালনা করে তন্মধ্যে গবেষণা, প্রকাশনা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক অফলাইন/অনলাইন ফ্রি ট্রেনিং/কোর্স পরিচালনা করা; সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনার ও ওয়েবিনার আয়োজন করা; গবেষণা সম্পর্কিত রিসোর্সসমূহ (যেমন- বই, গবেষণা প্রবন্ধ, ওয়েবসাইট, ইত্যাদি) শেয়ার করা।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে গবেষণামূলক কাজের রেকর্ডকৃত লেকচারসমূহ ইউটিউবে ‘গবেষক হতে চাই লেকচার সিরিজ’ আকারে আপলোড করা হচ্ছে। খুব কম সময়েই এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরাও লাভবান হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যলয়ের গণ্ডি পেরিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরকেও আশার আলো দেখাচ্ছে লেকচার সিরিজটি (https://tinyurl.com/researchlectures)। কোর্সটি প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটে আপলোড করা আছে। প্রায় ১০০ এর অধিক কুইজে অংশগ্রহণ ও গবেষণা প্রপোজাল জমা দেয়া সাপেক্ষে কোর্স সম্পন্নকারীদের নাম প্রদর্শিত হয় ওয়েবসাইটটিতে (https://www.beresearcherbd.com/news)। সম্পূর্ণ ফ্রি এই কোর্সে দিন-দিন নিবন্ধন ও সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

রিসার্চ গাইডলাইন সিরিজ
শুধু রিসার্চ এর প্রাথমিক ধারণা জানলেই রিসার্চ করা সম্ভব নয়। রিসার্চ কিভাবে করতে হবে এই জন্য সঠিক গাইডলাইন জানা জরুরি। তাই, রিসার্চ গাইডলাইন সিরিজে এ শেখানো হয়েছে কিভাবে ভালো ইম্প্যাক্টফুল রিসার্চ পেপার লেখা যায়, কিভাবে রিভিউ পেপার লিখা যায়। অধ্যাপক ডঃ সাইদুর রহমান ও ড. নওশাদ আমিন (ইউনিভার্সিটি তেনেগা ন্যাশনাল) এই সিরিজে রিসার্চ এর মৌলিক বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করেছেন এবং ভাল রিসার্চ করার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

রিসার্চ আইডিয়া সিরিজ
নতুন গবেষকরা প্রায়শই তাদের ফিল্ড সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রয়োজনীয় টুলস, পাবলিকেশন, ট্রেন্ডিং রিসার্চ আইডিয়ার মতো ব্যাপার গুলোতে খুব ভালো জ্ঞান রাখতে পারে না - যা ভালো রিসার্চার হবার পথে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি নিয়মিত রিসার্চ আইডিয়া সিরিজ আয়োজন করছে। এই সিরিজটিতে অভিজ্ঞ রিসার্চারগণ তাদের স্বস্ব ফিল্ডের ট্রেন্ডিং রিসার্চ আইডিয়া, প্রয়োজনীয় স্কিল ও টুলস, পাবলিকেশন টিপস, স্পিকারের বর্তমান ও অতীত রিসার্চ প্রোজেক্ট এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে থাকেন।

উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গাইডলাইন সিরিজ
গবেষণা ক্ষেত্রে ভালো কাজ করার জন্য দেশে ও দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা একটা বড় ভূমিকা রাখে। অধ্যাপক ডঃ সাইদুর রহমান তাঁর অর্জিত জ্ঞান থেকে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য জটিল বিষয়গুলো সাবলিলভাবে উপস্থাপন করেন। দুইটি পার্টে বিভক্ত এই গাউডলাইন লেকচারে (লিংকঃ https://tinyurl.com/higherstudyseries) উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য, ডিগ্রির প্রকারভেদ, রিসার্চ টপিক, ফান্ডসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা প্রশ্নোত্তর সিরিজ
নতুন গবেষকদের জন্য গবেষণা করা খুব একটা সহজ নয়, এখানে অনেক রকমের প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু অনেক সময় তারা এই প্রশ্নগুলো রিসার্চার বা সুপারভাইজারদের থেকে জেনে নিতে ভয় পান বা সংকোচবোধ করেন। তাই, তাদের জিজ্ঞাসাগুলোর নিয়মিতভাবে উত্তর দিয়ে থাকেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও মো. ছাবির হোসাইন যা রিসার্চ কোয়েশ্চেন-এনসারিং সিরিজ আকারে চ্যানেলে আপলোড করা আছে।

দেশে প্রথম বারের মত রিসার্চ ক্যাম্পাস এম্বাসেডর নিয়োগ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম প্রসারের লক্ষে প্রথমবারের মত ক্যাম্পাস রিসার্চ এম্বাসেডর নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশ-বিদেশের ৪২টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছইয়ের পর থেকে ৭৪ জন রিসার্চ এম্বাসেডর নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৩০টি প্রতিষ্ঠান থেকে রিসার্চ এম্বাসেডর নিয়োগের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কার্যক্রমসমূহের প্রভাব, পরিবর্তন ও অর্জন
বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গবেষক হতে চাই প্ল্যাটফর্মটির কাজ ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিংগাপুর, জাপান, জার্মানী, কানাডাসহ ৩৪টি দেশে। এই সমস্ত দেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্যরাও লাভবান হচ্ছে এর কার্যক্রমের দ্বারা। তাদের কার্যক্রম থেকে গাইডলাইন নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি এট বাফেলো থেকে এমপিএইচ ডিগ্রি শেষ করেছেন বলে প্রসংশা করে ফেসবুকে লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম নামের এক তরুণ গবেষক।

তিনি বলেন, লেকচারগুলো দেখে গবেষণা শুরু করার পাশাপাশি অনেকেই গাইডলাইন অনুসরণ করে বিখ্যাত জার্নালগুলোতে প্রকাশনা করতে সমর্থিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ শাহরিয়ার আহমেদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ কাম্রুল হাসান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের অনন্যা হক অন্যতম।

আরেকজন তরুণ গবেষক জানান, এই প্ল্যাটফর্মের দ্বারা সত্যি আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমি গবেষণায় আরও অগ্রসর হতে চাই।

সবচেয়ে আশার বাণী হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মটির লেকচারগুলো অনুসরণ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মটি সমসাময়িক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর উপর আলোচনা/ওয়েবিনার আয়োজন করে থাকে।

প্ল্যাটফর্ম ও এর সূচনাকারীর স্বীকৃতি
প্ল্যাটফর্মটি গবেষণা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছে স্বীকৃতি। ২০২১ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় ‘হার না মানা ১০০ তরুণের গল্প’ নামক একটি বই যাতে উঠে এসেছে প্লাটফর্মটির সূচনাকারী মো. ছাবির হোসাইন ও তার টিমের প্রচেষ্টার কথা। ভিন্নধর্মী নানা উদ্যোগের অনুপ্রেরণা, শুরুর গল্প, চ্যালেঞ্জ, সফলতা, অর্জন ইত্যাদি বিষয় সুনিপুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

মো. ছাবির হোসাইন এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার (হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ) ও আইইবি, ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্দ্যোগে পরিচালিত ‘ইউনিবেটর’ প্রোগ্রামের জাতীয় মেন্টর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিবেটর প্রোগ্রামে চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত আইডিয়াগুলোকে বিজনেস ভেঞ্চারে চালু করা পর্যন্ত দেখভালের জন্য সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন মেন্টর নিয়োগ করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা
কেন এ ধরণের গবেষণায় নিয়োজিত আছেন জানতে চাইলে মো. ছাবির হোসাইন জানান, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান হিসেবে পরিণত হোক। শুধু চূড়ান্ত নয়, যেকোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা যাতে গবেষণা করতে পারে সে বিষয়ে জোর দেয়া। এজন্য কনফারেন্সে গবেষণা প্রবন্ধ রেজিষ্ট্রেশন ফি প্রদানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানো দরকার। কেননা একজন শিক্ষার্থীর গবেষণার হাতে খড়ি স্নাতক পর্যায়ে হলে, সে পরবর্তী ধাপে (মাস্টার্স ও পিএইডি) ভালো গবেষক হওয়ার রাস্তা সহজ হবে। আর একজন ভালো গবেষক দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রখাতে পারে। আশা করা যায়, আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় উদবুদ্ধ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হবে।


মন্তব্য

x