বায়ুকে দূষণ মুক্ত করবে চুয়েট শিক্ষার্থীদের ইকো ট্রান্সফরমার

করোনা
এই ইকো ট্রান্সফরমার বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরিয়ে নিয়ে বায়ুকে দূষণ মুক্ত করতে পারবে।  © ফাইল ছবি

কার্বন ডাই অক্সাইডসহ নানা ক্ষতিকর উপাদানে বাতাস যখন দূষিত তখন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তরুণ উদ্ভাবকদের আবিষ্কার যেন নিয়ে আসবে স্বস্তির বাতাস। পরিবেশ রক্ষা করতে তারা নিয়ে এসেছে ইকো ট্রান্সফরমার নামক সম্পূর্ণ নতুন ও অটোমেটেড ডিভাইস। এই ইকো ট্রান্সফরমার বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরিয়ে নিয়ে বায়ুকে দূষণ মুক্ত করতে পারবে বলে তাদের দাবি। তবে এটি নিয়ে এখনো কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তরুণ উদ্ভাবকের দল।

গবেষণায় জানা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে গত বছর সারাবিশ্বে মোট ছয় দশমিক সাত মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে এবং বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের বায়ুদূষণ এক অশনিসংকেতই বটে। কারণ ক্রমাগত এই দূষণে পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে যে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে তাতে ধারণা করা হয় অন্যতম বিপর্যস্ত দেশ হবে বাংলাদেশ। 

২০১৯ সাল প্রথম এটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। বায়ুর এই ক্রমাগত দূষণের সমাধান কী হতে পারে সেই ভাবনা থেকেই জন্ম হয় সম্পূর্ণ নতুন একটি ডিভাইসের। সেই সময় অনুষ্ঠিত হাল্ট প্রাইজে প্রথমবারের মতো আবিষ্কারটি নিয়ে অংশ নেয় টিম ‘মডেলিয়ান স্ট্রাইকারস’। এ টিমের সদস্যরা হলেন- চুয়েটের মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আসিফ আলম এবং ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সৈয়দ নাকীবুল ইসলাম।

প্রথম বারের মতো অংশ নিয়ে সেবারই সেমিফাইনালে ওঠে টিমটি। তাত্ত্বিক গবেষণা থেকে বাস্তবায়নের দিকের যাত্রাটিকে সহজতর করে দেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক হুমায়ুন কবির। তার নির্দেশনায় প্রাথমিক গঠনগত রূপ পায় ইকো ট্রান্সফরমার। এভাবেই ধীরে ধীরে এগোতে থাকে ট্রান্সফরমারটির গঠন, বিজনেস মডেল ও প্রদর্শনী।

হুমায়ুন কবির জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইকো ট্রান্সফরমার একটি অনবদ্য আবিষ্কার। গ্রিনহাউজ গ্যাসের রিসাইক্লিং পরিবেশকে যেমন বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করবে তেমনি এই রিসাইকেলে প্রাপ্ত সালফিউরিক ও কার্বনিক অ্যাসিড দেশের কারখানার প্রয়োজনীয় অ্যাসিড জোগান দিতে পারবে। এর বাস্তবায়ন ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এটি পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার অন্যতম নির্ভরযোগ্য অটোমেটেড ডিভাইস হবে।

দেশের তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোগে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হয় আইডিয়াথন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩৩০০ এর অধিক স্টার্টআপকে পেছনে ফেলে টপ ৩০ এ স্থান করে নিয়ে নজর কেড়েছিল স্টার্টআপ ইকো ট্রান্সফরমার। বিজনেস মডেলে বি টু বি (বিজনেস টু বিজনেস) রেখে বিজনেস শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে এই মডেলটির যাত্রা শুরু। 

ট্রান্সফরমারটির গঠন: 

ট্রান্সফরমারটির ভিত্তি নির্মিত হয়েছে মূলত ৮টি পৃথক চেম্বারে। এরমধ্যে প্রথমটি হবে অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর। তাতে বিশেষায়িত বয়লার স্থাপন করা হবে। এছাড়া বিশেষ কিছু প্রভাবকের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে অন্তস্থ বিক্রিয়া। তবে, চারপাশের ফ্রেম দিবে অ্যালুমিনিয়াম শিট৷ অন্তস্থ বয়লার ও আনুষঙ্গিক ইলেকট্রনিকস যন্ত্রগুলো চলবে সরাসরি এসি কারেন্ট অথবা ব্যাটারি ব্যবহারের মাধ্যমে।

ব্যবহার উপযোগিতা:

এই ট্রান্সফরমারটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সর্বত্র এর ব্যবহার উপযোগিতা। বায়ু দূষণ যেখানেই থাকবে সেখানেই অদূর ভবিষ্যতে ট্রান্সফরমার বসানোর উপযুক্ত মডেল সরবরাহ করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে উদ্ভাবক দলটি। কলকারখানা, ইটভাটায় সংযোজনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তারা।

ইকো ট্রান্সফরমার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে আসিফ আলম জানান, আমরা শুধু এখানেই থেমে নেই বরং একটি নির্দিষ্ট জায়গার বায়ুকে পরিশোধন করার মতো সম্পূর্ণ অটোমেটেড নতুন ডিভাইস আবিষ্কারে মনোযোগ দিচ্ছি। আমাদের ট্রান্সফরমারটির নতুন ভার্সনে নির্দিষ্ট স্থানে এটি রাখলে সেখানকার বায়ু থেকে দূষিত সব উপাদান ছেকে রেখে সেখানকার বায়ুকে দূষণমুক্ত করে দেওয়ার বৈশিষ্ট্য সংযোজন করবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।


মন্তব্য

x