মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা
  © প্রতীকী ছবি

রাজধানী ঢাকার শাজাহানপুর এলাকায় অর্পা হাসান (২০) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। নিহতের মা ধারণা করছেন, মোবাইল চালানো নিয়ে বকাঝকা করায় তার সঙ্গে অভিমান করেই মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অর্পা তেজগাঁও ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের ছাত্রী। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায়।

নিহতের মা রুপা বেগম বলেন, পড়ালেখা বন্ধ করে রাত জেগে মোবাইলে কথা বলায় আমি মেয়েকে বলি, এত রাত পর্যন্ত জেগে আছো কেন, মোবাইল বন্ধ করে ঘুমাতে যাও। এরপরে এসে দেখি, সে একই অবস্থায় মোবাইল নিয়ে কথা বলছে। এ নিয়ে মেয়েকে বকাঝকা করি।

রুপা বেগম জানান, দুপুর ১২টার দিকে বাজার করে বাসায় ফিরে তিনি অর্পার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। তখন অর্পাকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।  

পরে সেখান থেকে নামিয়ে দ্রুত তাকে প্রথমে স্থানীয় আল বারাকা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

“সে (অর্পা) খুব রাগী ও জেদি ছিল। এই কারণে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে,” বলেন মা রূপা।

পুলিশ জানায়, দুই বছর আগে অর্পার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে অর্পা তার মা রুপা আহমেদের সঙ্গে উত্তর শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ৩৭৯ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে অর্পাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনে তার পরিবারের সদস্যরা।

অর্পার মায়ের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, তিন মাস আগেও অর্পা ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সবশেষ গত পরশুদিনও মেয়ে অর্পা ঘুমের ওষুধ খায়। তখন ঢামেক হাসপাতাল থেকে তার স্টমাক ওয়াশ করানো হয়েছিল।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ