হাফ পাস ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

রাবি
মানববন্ধন   © সংগৃহীত

রাজধানীতে হাফ পাস ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রামপুরা ব্রিজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সোহাগী সামিয়া বলেন, কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র আলী হোসেন মারা গেলেও এখন পর্যন্ত তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাননি। পরিবহন শ্রমিকরা ১২-১৩ ঘণ্টা কাজ করলেও তাদের বিশ্রামের সুযোগ নেই, চিকিৎসার সুযোগ নেই, ঠিকমতো মজুরি পান না তারা।

সামিয়া আরও বলেন, গাড়ির ফিটনেস চেক বা লাইসেন্সের বিষয় সামনে এলে এতে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি হয়। সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হলেও রাষ্ট্র তার দায় নিতে চায় না।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যারা সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চে বিনা শর্তে হাফ পাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-

সড়কে নাঈম ও মাইনুদ্দিন হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

সারাদেশে সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ পাসের জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুযায়ী সমানভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে।

শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তির ভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকিট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

গাড়িচালকের কর্মঘণ্টা একটানা ছয় ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে দুজন চালক ও দুজন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

মাদকাসক্তি নিরসনে গোটা সমাজে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্ট ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।


x

সর্বশেষ সংবাদ