আগ্রহ-উদ্দীপনায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো ডাকসুর ভোটগ্রহণ
বড় ধরনের সংঘাত-সহিংসতা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে অমর একুশে হল ও টিএসসি কেন্দ্রে দুটি ব্যালট পেপার সংক্রান্ত সমস্যার অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শুধরে নেয়ার দাবি করেছেন রিটানিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অন্যদিকে উপাচার্য জানিয়েছেন, উভয় ঘটনার মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবুও এই ঘটনার আমরা পুনরায় তদন্ত করে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেব।
সর্বশেষ তথ্যমতে, ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে মিনি পার্লামেন্টখ্যাত এই এই নির্বাচনটিতে। জানতে চাইলে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দুটি ব্যালটের ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বাইরে খণ্ড খণ্ড কয়েকটি অভিযোগ কয়েকজন প্রার্থী দিয়েছেন। তবে সামগ্রিক চিত্র নিয়ে আরও একটু পর কথা বলা যাবে।
নির্বাচনের সামগ্রিক দিক নিয়ে বিকালে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। এ সময় তিনি বলেন, ‘মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে ডাকসু দেখতে চেয়েছিলাম, সেটিই ভালোভাবেই হচ্ছে। তিনি বলেন, বহুবছর পরে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে ডাকসু দেখতে চেয়েছিলাম, সেটি ভালোভাবেই হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০ ভাগের বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। আমরা আসা করছি যথাসময়ে ভোটের আজ শেষ করতে পারবো। চারটার পরেও যারা লাইনে থাকবে তাদের ভোট দেওয়া সুযোগ থাকবে। আমরা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভালো খবর পেয়েছি।
তবে একটি হলে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে তারা পরও যেহেতু তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠেছে তাই আমরা তাকে প্রত্যাহার করেছি। সিসিটিভি ক্যামেরায় সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে, কারো বিরুদ্ধে যদি ন্যূনতম অভিযোগ থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যালট পেপারে আগে থেকে যে দাগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেটিরও সমাধান হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ব্যাহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল প্যানেলের সহ–সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম। ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ জানাতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়েও গেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত এই ভিপি প্রার্থী। আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিনেট ভবনের অভিযোগপত্র নিয়ে যান তিনি।
এর আগে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মানুষের বাকস্বাধীনতাকে হরণ করার নতুন খেলার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছি মাত্রই। কিন্তু পরিস্থিতি সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না।’ যারা এখনো ভোট দিতে আসেননি তাদেরকে ভোট দিতে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আবিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দুপুরে অমর একুশে হল এবং রোকেয়া হলে পূরণকৃত ব্যালট শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নির্বাচন কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সেগুলোর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।