০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২

মাত্র ৫ সেকেন্ডে পা দেখেই বুঝুন হার্টের অবস্থা, মিলতে পারে আরও নানা রোগের ইঙ্গিত

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

প্রায় প্রায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ার খবর আমরা শুনতে পায়। নিজের হার্ট কতটা সুস্থ তা জানতে সব সময় চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়না। শরীরের কিছু ছোট পরিবর্তনই আগে থেকে বড় রোগের সংকেত দিতে পারে বলে মত চিকিৎসকদের। আপনার হার্ট কতটা ভালো আছে বা খারাপ তা জানা যেতে পারে পা দেখেই। ঘরে বসে মাত্র ৫ সেকেন্ডের একটি পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে, বিপদ কতটা।

পরীক্ষা করে কীভাবে বুঝবেন?
ঘুমের মধ্যেও কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? অনেক সময় শোনা যায়, কেউ সুস্থভাবেই ঘুমিয়েছিলেন, কিন্তু রাতেই হঠাৎ হৃদ্‌রোগে মৃত্যু হয়েছে। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে এমন ঝুঁকি বেশি থাকলেও এখন কম বয়সিরাও এর বাইরে নন। ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবেই হৃদস্পন্দন কমে যায়। কিন্তু রক্ত চলাচলে বাধা বা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গেলে নীরবে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’, যা তীব্র উপসর্গ ছাড়াই বড় ক্ষতি করতে পারে।

তবে শরীর আগেই কিছু সতর্কবার্তা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের পরিবর্তনেও মিলতে পারে সেই ইঙ্গিত। পায়ে ফোলা, অবশভাব বা চাপ দিলে দাগ থেকে গেলে বুঝতে হবে শরীরে তরল জমছে যা হার্ট, কিডনি বা রক্তসঞ্চালন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

হার্টে ব্লকেজ হচ্ছে কি না, তার কিছু প্রাথমিক ইঙ্গিত ঘরে বসেই বোঝা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের পর থেকেই স্বাভাবিকভাবে হৃদ্‌যন্ত্রে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে। বয়স ও জীবনযাপনের অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে এই জমা কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ধমনীর মুখ সরু হয়ে গেলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই তৈরি হয় ব্লকেজের ঝুঁকি। হার্টের সমস্যার ধরনও ভিন্ন হতে পারে বংশগত হলে কনজেনিটাল হার্ট ব্লক ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে করোনারি থ্রম্বোসিস, আর স্পন্দনের অনিয়ম হলে অ্যারিদমিয়া। এসব ক্ষেত্রে সারা শরীরে রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়ে তরল জমতে পারে, যার প্রভাব পড়ে পায়ে।
ফলে পা ফুলে যাওয়া, গোড়ালি বা কাফে ব্যথা এসব লক্ষণ অবহেলা না করাই ভালো। 

পরীক্ষাটি কেমন?
গবেষকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘৫ মিনিট লেগ-টেস্ট’। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন বা শুয়ে পড়ুন। এ বার একটি পা ৪৫ ডিগ্রি কোণে ৫ সেকেন্ডের জন্য উপরে তুলে রাখুন। যদি দেখেন পা উপরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের পাতায় কাঁপুনি হচ্ছে, আঙুলের রং বদলে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, তা হলে বুঝতে হবে পায়ে ঠিকমতো রক্ত চলাচল হচ্ছে না। এ বার পা নামিয়ে নিয়ে লক্ষ করুন। যদি দেখেন কিছু সময়ের মধ্যেই পা ফুলে গিয়েছে, গোড়ালি, পায়ের আঙুল ও কাফ মাসলে ব্যথা হচ্ছে, তা হলে বুঝতে হবে ধমনীতে ব্লকেজ রয়েছে।

গবেষণা বলছে, হার্টের ধমনীতে যদি ব্লকেজ থাকে এবং রক্তে অত্যধিক মাত্রায় কোলেস্টেরল জমা হয়, তা হলে এর প্রভাব পড়ে পায়েও। পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান ধরার মতো লক্ষণ বার বার দেখা দিতে থাকলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ। বিশেষ করে শোয়ার পরে পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। পা অসাড়ও হয়ে যায় অনেকের। এই সবই পেরিফেরাল আর্টারি ডিজ়িজ়’ (পিএডি)-এর লক্ষণ হতে পারে। পায়ের রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে, ফলে পা ফুলে যেতে পারে, যন্ত্রণা হতে পারে। এটির কারণ হল, খারাপ কোলেস্টেরল জমে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না পায়ে। তখন ত্বকের রং বদলাতে থাকে, নীলচে-বেগনি শিরা ফুটে ওঠে। এমন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। [সূত্র: আনন্দবাজার]