২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭

বিজ্ঞানসম্মত যে পাঁচ অভ্যাস দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের চাবিকাঠি

দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম  © সংগৃহীত

প্রায়ই চাবি কোথায় রেখেছেন ভুলে যাচ্ছেন? আপনি একা নন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। সাধারণভাবে মনে করা হয়, বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বয়স বাড়লেও মানসিক দক্ষতার অবনতি অবধারিত নয়। বরং কিছু সচেতন জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘ সময় সুস্থ মস্তিষ্ক ও শরীর নিয়ে বাঁচতে পারি। 

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানব মস্তিষ্ক জীবনের পাঁচটি বড় ধাপ অতিক্রম করে, যার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে গড়ে ৯, ৩২, ৬৬ ও ৮৩ বছর বয়সে। গবেষণা অনুযায়ী, ৩০-এর কোঠায় মস্তিষ্ক পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক রূপ নেয় এবং ৬০-এর মাঝামাঝি বয়সে বার্ধক্যের লক্ষণ শুরু হয়। এই পরিবর্তন স্থায়ী বা সবার জন্য এক নয়। 

গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয় জীবনযাপন, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কে ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করে, যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে বয়সজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এই গবেষণার আলোকে বিবিসি ‘লাইভ ওয়েল ফর লংগার’ নামে একটি নিউজলেটার কোর্স চালু করেছে, যেখানে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার সহজ ও বিজ্ঞানভিত্তিক অভ্যাস তুলে ধরা হয়েছে।

১. নিয়মিত শেখার অভ্যাস বজায় রাখা
নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বই পড়া, বাগান করা, নতুন ভাষা শেখা কিংবা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়া সবই স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক। স্কটল্যান্ডের হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অ্যালান গাউ বলেন, বয়স বাড়লেও গুরুতর মানসিক অবক্ষয় অনিবার্য নয়। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে আমরা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা ও উন্নয়ন করতে পারি। নতুন কোনো শখ বা দক্ষতা শেখা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। 

২. মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন সঠিক খাবার
স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যের গুরুত্ব নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে সহজ একটি নিয়ম হলো খাবারে যত বেশি রঙিন ফল ও সবজি রাখা যায়, তত ভালো। প্রতিদিন মাত্র এক বাটি অতিরিক্ত ফল বা সবজি খাওয়াও মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিজ্ঞানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যগুলোর একটি হলো ফল ও সবজি যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক দুটোর জন্যই উপকারী।

যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যারেন স্কট বলেন, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যতালিকায় আঁশ (ফাইবার) বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন মাস নিয়মিত ফাইবার গ্রহণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও রাখে সক্রিয়
অনেকেই মনে করেন, ব্যায়াম মানেই কঠিন শরীরচর্চা। কিন্তু নিয়মিত হাঁটাচলাও যথেষ্ট উপকারী। আপনি কত দ্রুত হাঁটেন, তা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের বয়সের একটি ইঙ্গিতও হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশেষ টিকায় কমবে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি, কোন বয়সে নেওয়া উপকারী?

গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য বয়সে যারা বেশি সক্রিয় ছিলেন, তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ কম। ব্যায়াম আলঝেইমারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ মস্তিষ্কের অংশগুলোকে শক্তিশালী করে।

৪. বন্ধু ও সামাজিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া
সামাজিক সম্পর্ক আমাদের আয়ু ও সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যারা সামাজিকভাবে সক্রিয়, তারা সাধারণত বেশি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করা, একসঙ্গে হাঁটা, কফি খাওয়া বা কোনো শখ ভাগ করে নেওয়া মানসিক শক্তি বাড়ায়।

৫. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ
দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেতে বড় কোনো বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। গবেষণা বলছে, ছোট কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর। ফিনল্যান্ডে পরিচালিত বিখ্যাত ‘ফিঙ্গার স্টাডি’-তে দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, মানসিক চর্চা ও হৃদযন্ত্রের যত্ন এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিবর্তনে দুই বছরে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। (সূত্র: বিবিসি)