লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটে হতে পারে যেসব ক্ষতি
নারী প্রসাধনী জগতের অন্যতম একটি উপকরণ লিপস্টিক। এটি শুধু ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্যই নয় বরং ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তবে এতে থাকা রাসায়নিক উপাদানের জন্য নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহারের কারণে ঠোঁটের ত্বক অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
লিপস্টিকে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং বা ডাই ও কেমিক্যাল ঠোঁটকে শুষ্ক ও কালচে করে তুলতে পারে। এ কেমিক্যেল ত্বকে জমে যেয়ে ঠোঁটে কালো দাগ ফেলে, ফলে ঠোঁটের প্রাকৃতিক গোলাপী আভা চলে যেতে পারে। রঙ যত গাঢ় হয় তাতে বিষাক্ত রসায়নের পরিমাণও তত বেশি হয়।
লিপস্টিকে ব্যবহৃত সুগন্ধি ঠোঁটের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে অ্যালার্জি, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও ফাটা ঠোঁটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা ওয়াটারপ্রুফ লিপস্টিকগুলোতে অতিরিক্ত রাসায়নিক থাকায় ত্বকের ক্ষতি হয় বেশি। অনেক লিপস্টিকেই সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম কিংবা অন্যান্য অনেক ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে জমে গিয়ে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন : গাজায় আবার ত্রাণবাহী নৌযান পাঠাবে ফ্লোটিলা
এ প্রসাধনী নিয়মিত ব্যবহারের ফলে শরীরে ক্রোমিয়ামের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বেড়ে যায়, যা টিউমার তৈরির কারণ হতে পারে। খাবার খাওয়ার সময় নিজেদের অজান্তেই অনেক সময় লিপস্টিকের কিছু অংশ শরীরে প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে রাসায়নিক উপাদান শরীরে জমতে জমতে ক্যানসারের ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এজন্য লিপস্টিক ব্যবহারে কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে-
- মানসম্মত ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করা।
- প্রতিদিন না লাগিয়ে সীমিতভাবে ব্যবহার করা।
- রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লিপস্টিক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া।
- নিয়মিত লিপবাম বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঠোঁটের যত্ন নেওয়া।
- যতটা সম্ভব রাসায়নিকমুক্ত লিপস্টিক বা লিপ বাম ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে।
- সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।