ত্বক গ্লো করতে জাদুকরি মাধ্যম ‘স্কোয়ালেন’, ব্যবহার করবেন কীভাবে?
ব্যস্তময় জীবনে নিজের প্রতি যত্ন নিয়ে হয়ে উঠে না। ফলে বয়স হওয়ার আগেই ত্বক কুঁচকে যায় অনেকের। এটি স্বাভাবিক। তবে, ত্বক স্লিম রাখতে কত না প্রচেষ্টা! ‘অ্যান্টি-এজিং থেরাপি’ গবেষণাটি বিশ্ব জুড়ে আলোচনায়। ইদানীং রূপচর্চার দুনিয়ায় হাইয়ালুরনিক অ্যাসিড, রেটিনল বা নিয়াসিনামাইডের মতো ভারী ভারী নামগুলো আমাদের বেশ চেনা হয়ে গেছে। স্ক্রল করলেই এই উপাদানগুলোর গুণগান চোখে পড়ে। কিন্তু এই ‘বিউটি ট্রেন্ড’-এর ভিড়ে এখন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলে দিয়েছে একটি জাদুকরী নাম ‘স্কোয়ালেন’।
স্কোয়ালেন আসলে কী?
এটি মূলত একটি প্রাকৃতিক লিপিড বা চর্বি জাতীয় উপাদান, যা আমাদের লিভারেই তৈরি হয়। আমাদের ত্বকের গ্রন্থি থেকে যে তেল বের হয়, তার সাথে মিশে গিয়ে এটি ত্বকের ওপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর তৈরি করে। এই স্তরটি ত্বককে নরম, বাইরের ধুলোবালি এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের ত্বকের লিপিড স্তরের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশই দখল করে থাকে এই স্কোয়ালেন।
গুণাগুণ
এই স্কোয়ালেন ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের জোগান, শরীরের বিভিন্ন প্রবাদ (ব্রণ, ফুসকুড়ি কিংবা সোরিয়াসিস) প্রতিরোধ এবং তারুণ্য ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে। বলা হয়, ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে এটি তুরুপের তাস! বয়স বাড়লেও ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেবে না; আর জেল্লা থাকবে অটুট।
প্রাকৃতিক উৎস ও বিবর্তন
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে স্কোয়ালেন তৈরির পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং বলিরেখা দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণের জন্যই বাইরে থেকে স্কোয়ালেন ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। একটা সময় এই উপাদান সংগ্রহের জন্য নিষ্ঠুরভাবে হাঙরের লিভার ব্যবহার করা হতো, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখনকার প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত স্কোয়ালেন মূলত সংগ্রহ করা হয় জলপাই (অলিভ অয়েল), আখের রস, বিভিন্ন দানাশস্য এবং বিশেষ ধরণের ছত্রাক থেকে। এই উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে সংগৃহীত স্কোয়ালেনই এখন ময়েশ্চারাইজার বা সিরামের মাধ্যমে আমাদের ত্বকের যত্ন নিচ্ছে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
স্কোয়ালেন সাধারণত তেল বা সিরাম আকারে পাওয়া যায়। মুখ পরিষ্কার করার পর ২ থেকে ৩ ফোঁটা স্কোয়ালেন হাতে নিয়ে আলতো করে মুখ ও গলায় ম্যাসাজ করুন, সকালে ব্যবহার করলে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। রাতে ময়েশ্চারাইজারের আগে বা পরে ব্যবহার করা যেতে পারে।
চুলের যত্নেও ব্যবহার করা যায়। রোজের শ্যাম্পু বা কন্ডিশনারের সঙ্গে অথবা মাথায় মাখার তেলের সঙ্গে অল্প করে স্কোয়ালেন অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। রূপটানের আগে স্কোয়ালেন তেল সামান্য নিয়ে মুখে মেখে নিলে মেকআপের রাসায়নিকে ত্বকের ক্ষতি কম হয়।
ব্যবহার সতর্কতা
যাদের ত্বকে অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তারা নতুন কোনো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কোয়ালেন ত্বকের সঙ্গে সহজে মিশে যায় এবং কোনো ভারী অনুভূতি ছাড়াই কার্যকর ফল দেয়। তাই আধুনিক স্কিন কেয়ারে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। [আনন্দবাজারের আলোকে]