অস্ত্রোপচারের আগে করোনা টেস্ট, লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সিরিয়াল
করোনার সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা সর্তকতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সেই সর্তকতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ত্রপাচারের আগে ডাক্তারকে দেখাতে হবে করোনা টেস্টের রিপোর্ট। কিন্তু আগে নিবন্ধন ছাড়া টেস্ট করা যাচ্ছে না। এদিকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন অসহায় অসুস্থ রোগীরা। এমনই চিত্র রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিভার ক্লিনিক ও করোনা টেস্ট সেন্টারের।
সূত্র মতে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) এমন একাধিক রোগীর ভোগান্তির তথ্য উঠে এসছে। বিএসএমএমইউ ফিভার ক্লিনিক ও করোনা টেস্ট সেন্টারের প্রবেশ গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পটুয়াখালীর বাসিন্দা এক বৃদ্ধ দম্পতি। কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে তারা করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ করায় জানতে পারলেন আগে থেকে নিবন্ধন করে সিরিয়াল নিয়ে না আসলে কোনোভাবেই করোনার টেস্ট করা সম্ভব নয়।
হনুফা বেগম নামের বৃদ্ধা জানান, পটুয়াখালী থেকে ভোরে লঞ্চে ঢাকায় পৌঁছে সরাসরি বিএসএমএমইউর আউটডোরে আসেন তিনি। সেখানে দুই ঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে নাক, কান ও গলার ডাক্তার দেখান। চিকিৎসক তাকে দেখে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কানে অস্ত্রোপচার করতে হবে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছেন। এর মধ্যে সবার আগে করতে হবে করোনা টেস্ট, তারপর বাকি টেস্ট করাতে পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু করোনা টেস্টের জন্য সিরিয়াল কিভাবে নিতে হয় তা তারা জানেন না।
শুধু হনুফা বেগম একা নন, তার মতো আরও বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের অভিভাবককে করোনার সিরিয়াল না নিয়ে এসে বিপাকে পড়তে দেখা যায়। একাধিক রোগী ও তাদের অভিভাবক জানান, হাসপাতালে যেকোনো রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকরা আগে করোনা টেস্ট করিয়ে আনতে বলছেন। করোনা টেস্টের ফলাফল না দেখে তারা অস্ত্রোপচার করবেন না বলে রোগীদের সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন। ফলে অনেক রোগী, বিশেষ করে যাদের দ্রুত অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিএসএমএমইউর ফিভার ক্লিনিক ও করোনা টেস্ট ইউনিটে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। জানা গেছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিএসএমএমইউর এ সেন্টারে ৫৬৬টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে বিএসএমএমইউতে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ১৩২টি।
বিএসএমএমইউর বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া গত সোমবার (২২ মার্চ) জানান, করোনা সেন্টারে রোগীর ভিড় দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষায় সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা লাগে। বিএসএমএমইউতে পরীক্ষায় মাত্র ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। এ কারণে ভিড় বেশি।
করোনার নমুনা পরীক্ষা ছাড়া অস্ত্রোপচার ও রোগী ভর্তি হচ্ছে না- এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএসএমএমইউর বিভিন্ন বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানান, সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা নিজেরা শঙ্কিত। এ কারণে যেকোনো রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের আগে তিনি করোনামুক্ত কিনা তা জেনে নিতে প্রথমেই করোনা পরীক্ষা করে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় এলেও নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এমনটা করছেন বলে স্বীকার করেন তারা।