২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২৮

প্রথমদিকেই করোনার টিকা পেতে চায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীরা  © ফাইল ছবি

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে আছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। করোনার দীর্ঘ সময়ের পর এবার বিভিন্ন দেশে এর টিকা নেয়া কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশেও করোনার টিকা খুব দ্রুত পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা পরিস্থিতির দীর্ঘ ১০ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্তের মুখে রয়েছে দেশের শিক্ষা খাতগুলো। এদিকে করোনার টিকা নেয়ার শুরুর তালিকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রাখা উচিত বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে তাদের আগে টিকা দেয়া হলে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে এবং দ্রুত শুরু করতে পারবে। দেশে গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

তারা আরও বলছেন, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করলেও অসম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়েই তারা বেড়ে উঠছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়বে।

আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১০ মাস পড়ালেখা না হওয়ায় তা হচ্ছে না। নভেম্বরের শেষে শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুল-কলেজ খোলার করা হলেও করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের কথা চিন্তা করে তা হয়নি।

এছাড়া দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট বাড়ছে। ফলে এসব শিক্ষার্থীর জন্য শুরুতেই করোনার টিকা দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, একটা সময় তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতেই হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয় তাড়িয়ে আশার সঞ্চার করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের নিরাপদ মনে করে তবেই তারা স্কুলে আসবে।

এদিকে সম্প্রতি ইউনিসেফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর সংখ্যা ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। তাই স্কুল খুলে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে ইউনিসেফ। একই সঙ্গে শিশুদের যথাসম্ভব নিরাপদে রাখার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্কুল বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত ৯ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষগ্রহণে অগ্রগতি এবং সার্বিক কল্যাণের ওপর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যানুসারে, গত ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচজন স্কুলগামী শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের বা মোট ৩২ কোটি শিশুর ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

এদিকে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য সব কিছুই চলছে। যেহেতু শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ঘরে বসে আছে, তাই করোনার বিরুদ্ধে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও সেভাবে তৈরি হয়নি। এ জন্য আমি মনে করি, করোনার টিকা প্রাপ্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুরুতেই ভাবা উচিত।