২৭ জুন ২০২০, ১৩:১৭

কাঁধে শিক্ষকের লাশ নিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো তাদের

কাঁধে শিক্ষকের লাশ  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর লাশ দাফনে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে লাশ নিতে বাঁধা দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরে অবশ্য শর্ত সাপেক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুমতি দিয়েছেন।

ফতেয়াবাদ সিটি কর্পোরেশন কলেজের শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম ব্যাচের এবং ফিন্যান্স ১৬তম ব্যাচের সাবেক ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন চট্টগ্রাম নগরীর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুতুবদিয়ায় মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় লাশ বহনকারীদের দলে থাকা একজন বাঁধা দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে দিয়েছেন।

ফেসবুকে তিনি অভিযোগ করেন, গোসল ও কাফনের পর্ব শেষে আল মানাহিলের দল পেকুয়ার মগনামা ফেরি ঘাটে যায়। উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ার দক্ষিন মলম চর গ্রাম। ওখানে গিয়ে দেখি কোন স্টিমার বা লঞ্চ আমাদের নিতে রাজী হয় না। বুঝানোর চেষ্টা করা হল অনেক। নাহ! কোন কাজ হয় না। সবার মুখে এক কথা! অচ্ছুৎ লাশ! এলাকাবাসীর মানা।

শুরু হল অপেক্ষার প্রহর। স্বজন মারফত আমরা জানতে পারি স্থানীয় কিছু লোকজন প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে যাতে লাশের দাফন কুতুবদিয়াতে না হয়। অবশেষে অনেক তোরজোড় এরপর কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইউএনও সাহেব আমাদের লঞ্চে যাওয়ার অনুমতি দেন।

তবে যে শুধু খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল তা না, মুদ্রার অপর পিঠের মত কিছু স্থানীয় মানুষ কবর দেওয়াতে হাত লাগিয়েছিল আমাদের সাথে। আর কিছু মানুষ ভুল বুঝে ক্ষমা চেয়েছিল। লাশ দাফন শেষে স্বজনদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তি, নেই কোন কান্নার পানি।
দাফন করতে পারাই যেখানে কোহিনুর পাওয়ার মত, শোক প্রকাশ সেখানে বিলাসিতা।