যে কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘুড়ি উড়ানো নিষিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ঘুড়ির সুতায় দুর্ঘটনাসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘুড়ি উড়ানো দিনকে দিন বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জন চলাচলের স্থানে ঘুড়ি উড়ানোর কারণে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
পৌর এলাকার টি.এ. রোডের ফ্লাইওভারে ঘুড়ির সুতোয় কেটে যাওয়ায় এক যুবকের মুখমণ্ডলে শতাধিক সেলাই লাগে। ঘুড়ির সুতায় আরেক যুবকের গলা কেটে গেছে।
এদিকে গত ২ মে শহরের ফ্লাই ওভারে ঘুড়ির সুতায় মুখ কেটে আহত হন শহরের মধ্যপাড়া এলাকার সাহিম (২২) নামে এক যুবক। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার গালে ২১৩টি সেলাই দেয়া হয়।
এরপর গত ১১ মে মোরসালিন আহমেদ নামে অপর এক যুবক গলায় ঘুড়ির ধারালো সুতা লেগে গুরুতর আহত হন। পরে ওই যুবক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
অপরদিকে ১৫ মে শহরের রামকানাই মার্কেটের কম্পিউটার স্কুলের স্বত্বাধিকারী সোলেমান হোসেন শহরের ওভারব্রিজে কেটে যাওয়া ঘুড়ির ধারালো সুতো গলায় জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। অল্পের জন্যে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে লেখালিখির পর স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরে আজ জেলা প্রশাসন প্রজ্ঞাপন জারি করে ঘুড়ি উড়ানো নিষিদ্ধ করে।
গতকালের গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলা হয়, ঘুড়ির সুতোয় ইতিমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘুড়ি প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনচলাচলের স্থান ও রাস্তার পাশে ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হলো। অনুমতি ছাড়া ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতাও নিষিদ্ধ করা হয়।