সব দেশই সমানভাবে পাবে করোনা ভ্যাকসিন: ডব্লিউএইচও
বিশ্বের সব দেশই সমানভাবে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ রোগের নতুন ভ্যাকসিন, টেস্ট কিট এবং চিকিৎসাসেবা পাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় এ বিষয়ে একমত হন তারা। তবে এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
এখন পর্যন্ত করোনার ১০০টি ভ্যাকসিনের সন্ধান মিলেছে পুরো বিশ্বে। এরই মধ্যে ৬ টির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। দ্যা ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সিইও ডা. সেথ বার্কলি বলছেন, প্রত্যেকের জন্য ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য বিশ্ব নেতাদের সহায়তা দরকার। এর আগে ২০০৯ সালে ভ্যাকসিনের সল্পতার কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ডব্লিউএইচও প্রধান ট্রেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস ওই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যখন নতুন কোনো কিছু তৈরি হয়; তখন সেটি সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য হয় না। এখন সবচেয়ে জরুরি সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের ভ্যাকসিন, টেস্ট কিট এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে পারব। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের অংশীদার, ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক এবং বেসরকারি খাতকে অবশ্যই এক হয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন গবেষণা ফল প্রত্যেককে সমানভাবে উপকৃত করতে পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।’’
ট্রেড্রোস বলেন, ‘এরই মধ্যে ডাব্লুএইচও কাজ শুরু করেছে। গত জানুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী শত শত প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের সাথে ভ্যাকসিনগুলির বিকাশ ও পরীক্ষার জন্য কাজ করে চলেছে। এমনকি উদ্ভাবনী পরীক্ষার নকশাগুলিতে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির মান নির্ধারণ এবং ভ্যাকসিন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।’
এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। পরে বিশ্বব্যাপী সেটা মহামারী রূপ ধারণ করে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ২৮ লাখেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত আর প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ।