২২ এপ্রিল ২০২০, ১৫:২২

নরসিংদীতে বেড়েই চলেছে করোনা রোগী

  © ফাইল ফটো

নরসিংদী জেলায় নতুন করে আরও ৩০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৪ জনে। তবে গত দুই দিন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোনো রিপোর্ট ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত নরসিংদীতে আসেনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নরসিংদীর সিভিল সার্জন মো. ইব্রাহীম টিটন।

জানা যায়, জেলাজুড়ে করোনায় সংক্রমণে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে ওই তালিকার প্রায় অর্ধেকই স্বাস্থ্যকর্মী। গত শনিবার করা সর্বশেষ হিসেবে থেকে দেখা যায়, আক্রান্ত ১০৪ জনের মধ্যে চারজন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের নানা পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪৬ জন। এতে জেলার সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি জনসাধারণও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় জানায়, শনিবার দুপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ৭৭ জনের নমুনা রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রোববার সন্ধ্যার মধ্যে ওই ফলাফল হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা পেয়েছি সোমবার সকালে। ওই ফলাফলে ৩০ জন ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলায় ২২ জন ও রায়পুরার ৮ জন রয়েছেন।

গত দুইদিনের পাঠানো নমুনাগুলোর ফলাফল আমরা এখনো হাতে পাইনি। তবে ফলাফলের হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। অন্যদিকে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করাসহ তাদেরও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জেলা করোনা প্রতিরোধ জরুরি সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইমরুল কায়েস জানান, এ পর্যন্ত জেলার মোট ৪৯৪ জন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা শেষে ১৩৪ জনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সদরে ৭০ জন , রায়পুরায় ২৬ জন, শিবপুরে ১৭ জন, বেলাবতে ১১ জন, পলাশে ৫ জন ও মনোহরদীতে ৫ জন রয়েছেন। তবে এরই মধ্যে নরসিংদী সদর ও পলাশের দুই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে সুস্থ্য আছেন। জেলায় প্রায় ৮ শতাধিক ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে কেউ নেই।

বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন প্রায় ৫০ জন। করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তি বা স্বজনদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল পলাশ উপজেলায় জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরদিন রায়পুরা উপজেলায় আরও একজনকে করোনা আক্রান্ত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা দুজনেই নারায়ণগঞ্জ থেকে আক্রান্ত হয়ে নরসিংদীতে ফিরেছিলেন।