আইইডিসিআরের ৪ জন করোনা আক্রান্ত, কোয়ারেন্টাইনে ফ্লোরা
সরকারি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) চার টেকনোলজিস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা মহাখালীর সংক্রামকব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে সতর্কতার জন্য স্বেচ্ছায় কোয়ারন্টোইনে রয়েছেন আইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস এম আলমগীর।
আজ বৃহস্পতিবার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইডিসিআর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তিনি জানান, করোনা আক্রান্তরা স্টাফরা যেহেতু আইডিসিআরে কাজ করত। তারাও আমাদের সংস্পর্শে ছিল। তাই তাদের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর অধিক সতর্কতার জন্য আমরা স্বেচ্ছায় কোয়ারন্টোইনে রয়েছি।
আর আইডিসিআরের যেসব স্টাফরা যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তারা অফিস থেকে নয় অন্য কোথাও থেকে আক্রান্ত হতে পারেন বলে মনে করছেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
এছাড়া কোয়ারন্টোইনে থাকার কারণে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ের আয়োজনে সরাসরি থাকছেন না আইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস এম আলমগীর।
একইসঙ্গে আইডিসিআরের পার্শবর্তী একটি ভবন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তারা। সেখানে থেকে অফিস করছেন এবং অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে অন্যদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
গেল ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর মাসের শেষের দিক থেকে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। এই সিদ্ধান্তের পরও করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছেই। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এরইমধ্যে নানা পদক্ষেপও নিয়েছে।
দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক চিকিৎসকসহ ৫০ জন মারা গেছেন।
এদিকে করোনায় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। ইতিমধ্যে অর্ধশত চিকিত্সক এবং প্রায় সমসংখ্যক নার্স করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত দুই দিনে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনসহ ১১ জন করোনায় মারা গেছেন। দুই দিনে নতুন শনাক্ত হয়েছে ৪২৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সবার আগে চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে ডাক্তারদের আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সেবা দেবে কারা? আগামী সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য খুবই ক্রিটিক্যাল বলে আবারও সতর্ক করে দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেছেন, এই সময়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। মানুষকে ঘরে রাখতে হবে। করোনা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বেকার ডাক্তার-নার্সদের মধ্য থেকে তিন হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজার নার্স প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।