১৫ এপ্রিল ২০২০, ১৪:১৯

বাড়ি আসার আকুতি জানিয়ে চিকিৎসক বাবাকে মেয়ের চিঠি

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে মধ্যে ছয় বছরের এক শিশু তার চিকিৎসক বাবার কাছে আবেগঘন চিঠি লিখেছে। চিঠিতে করোনাভাইরাসকে মেরে দিয়ে তাড়াতাড়ি বাবাকে বাসায় ফিরতে বলেছে সে। গত ২২ মার্চ থেকে এই চিকিৎসক তাঁর একমাত্র মেয়ে ও পরিবারের অন্যদের থেকে দূরে থাকছেন। এদিনের পর তিনি কর্মস্থল গাজীপুর থেকে আর বাসায় ফেরেননি। তিনি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

শিশুটি তার চিঠিতে লিখেছে:

‘৯/৪/২০২০

আব্বুজি
তুমি কেমন আছো? কতদিন হলো তুমি আসছো না। আমি কার সাথে খেলা কোরবো? আম্মু বোলেছে করোনা কে তুমি ঢিসুম দিতে হাসপাতালে গিয়েছো। করোনাকে মেরে দিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে এসো। তুমি বোকা ছেলে।
(...) ’

এই চিকিৎসক মেয়ের চিঠি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দাঁত ব্রাশ করার ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘বাসা থেকে বের হয়েছি গত মাসের ২২ তারিখ। আজ অবধি মেয়েটাকে একটু আদর করতে পারছি না। অথচ তার সাথে খুনসুটি না হলে আমার ঘুমই আসত না। দাঁত ব্রাশের ছবি কেন দিলাম? গত দুদিন আগে আমাকে ভিডিও কল দিয়ে বলছে...আব্বু তুমি আমার সাথে দাঁত ব্রাশ কর, তাহলে আমার মনে হবে তুমি আমার পাশেই আছ। তখন বাজে রাত ১২টা, আর আমার মনের অবস্থা কয়টা বাজে হতে পারে?...তার কণ্ঠে যখন বোকা ছেলে শব্দটা শুনি, আমার তখন মাকে খুব মনে পড়ে। কাল ডিউটিরত অবস্থায় চিঠি পাওয়ার পর আমার মনোযোগ হারাচ্ছিলাম বারবার। আবার ফোনে শাসন...চিঠি (হার্ড কপি) খোকন আংকেল কে দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম, এই বোকা ছেলে তাড়াতাড়ি উত্তর দিবে কিন্তু। আমি ভাষা খুঁজে পাইনি বলে উত্তর দিতে পারিনি...জানিনা মা কবে করোনাকে মেরে আমরা তোমার কাছে ফিরতে পারব।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘আমি হাসপাতালের এমন জায়গায় কাজ করছি, যেখানে সব ধরনের রোগীকে দেখতে হচ্ছে। তাই মেয়ে ও অন্যদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই ঢাকায় আমার পরিবার থেকে দূরে থাকছি। বোনের বাসায় সম্পূর্ণ আলাদাভাবে থাকার সুযোগ পাচ্ছি। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি না। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রোগীরা করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকার পরও তথ্য গোপন করছেন। নিজের মনের সন্দেহ থেকে আমি নিজে আক্রান্ত কি না, তা একবার পরীক্ষা করেছি। ১৩ এপ্রিল এক নারী রোগী ও তাঁর পরিবার দীর্ঘক্ষণ তথ্য গোপন করে পরে স্বীকার করেন করোনার উপসর্গের কথা। আর ততক্ষণে ওই কক্ষের কয়েকজন ওই রোগীর কাগজপত্র দেখাসহ বিভিন্নভাবে সংস্পর্শে এসে গেছেন। তাই ওই কক্ষের সংশ্লিষ্টদের আবার পরীক্ষার পালা, করোনা নেগেটিভ হলে তো কথাই নেই, আর পজিটিভ হলে...।’