বাড়িতে বাড়িতে লাশ পাচ্ছে স্পেনের সেনারা
করোনা ভাইরাস ঠেকাতে স্পেনে সেনাবাহিনী কাজ করছে। তারা দেখেছে, বয়স্করা বাড়িতে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছেন। কখনো কখনো তাদের মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে বলেও দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে। স্পেনের মাদ্রিদ শপিং সেন্টারটি সাময়িকভাবে মর্গে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমানে সে দেশের সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত (যেখানে মরদেহ পাওয়া গেছে) বাড়িগুলো জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, পুরো স্পেনে বিভিন্ন স্থানে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বয়স্কদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছে সেনা সদস্যরা।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলস বলেন, অভিযানের সময় সেনাবাহিনী দেখেছে, কিছু বয়স্ক ব্যক্তি বাড়িতে একেবারে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। কখনো কখনো তাদেরকে বিছানায় মরে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনার জেরে তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, স্পেনে এখন পর্যন্ত দুই হাজার একশ ৮২ জন মারা গেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে চারশ ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষণায় পাওয়া গেল করোনার আরও দুই লক্ষণ
জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টই করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯-এর সাধারণ লক্ষণ হিসেবে জানা গিয়েছিল। তবে রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে আরও দুটি উপসর্গ ভাবিয়ে তুলেছে চিকিৎসকদের। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ঘ্রাণশক্তি লোপ এবং খাবারের স্বাদ বুঝতে না পারার উপসর্গ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে কয়েকটি দেশের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়, স্বাদ-গন্ধ লোপ পাওয়াও এ ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
তারা বলছেন, এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও কিংবা তার মধ্যে অন্য কোনো উপসর্গ না থাকলেও ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়া এবং খাবারের স্বাদ বুঝতে না পারার লক্ষণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে অন্তত সাত দিনের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে।
বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে শুক্রবার ব্রিটেনের একদল নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, অন্য লক্ষণ না থাকলেও বয়স্কদের মধ্যে ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে সাত দিনের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। নতুন এ উপসর্গ নিয়ে খুব বেশি তথ্য-উপাত্ত পাওয়া না গেলেও সতর্ক হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
ব্রিটিশ রাইনোলজিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ক্লেয়ার হপকিন্স বলেন, আমরা সত্যিই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করতে চাই, কারণ এটি সংক্রমণের একটি লক্ষণ। কারও ঘ্রাণশক্তি লোপ পেলে তার উচিত স্বেচ্ছায় আলাদা থাকা।
এর ফলে (ভাইরাসের) বিস্তারের গতি কমবে এবং প্রাণও বাঁচবে। যেসব রোগীর ঘ্রাণশক্তি লোপ পেয়েছে, এমন রোগীদের চিকিৎসার সময়ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ব্রিটিশ চিকিৎসকদের সংগঠন ইএনটি ইউকের প্রেসিডেন্ট নির্মল কুমার।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা বলছেন, ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম নয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০০ রোগীর ৩০ শতাংশের মধ্যেই এই উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।