করোনায় প্রাণ হারালেন আরেক বাংলাদেশি
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন আরেক বাংলাদেশি। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ৬৬ বছর বয়সী ওই ব্যাক্তির নাম আফরোজ মিয়া। তার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাগিরঘাট গ্রামে। পূর্ব লন্ডনের রয়েল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে মারা যান।
জানা গেছে, আফরোজ মিয়া ৮ দিন আগে অসুস্থ হয়ে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই ডায়বেটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থ্যতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রাণঘাতী এ ব্যাধির সাথে ৮ দিন যুদ্ধ করার পর অবশেষে গতকাল শুক্রবার মারা যান তিনি। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহটি স্বজনদের কাছে কিভাবে কখন হস্তান্তর করা হবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবরে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি পাড়ায় আতঙ্ক নেমে এসেছে।
গণমাধ্যমের তথ্য মতে, শুক্রবার পর্যন্ত ব্রিটেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ১২জন। এর মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী তৃতীয় ব্যক্তি ছিলেন ম্যানচেষ্টারে বসবাসরত এক বাংলাদেশি(৬০), যিনি ৫/৬ বছর আগে ইতালি থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন ব্রিটেনে।
আইসিইউতে করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী
এদিকে স্পেনে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী হন, ঢাকায় তাদের বাড়ি। রাজধানী মাদ্রিদে তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আটজনের মধ্যে তিনজন সিলেটের, ঢাকার দুইজন (স্বামী-স্ত্রী), যশোরের একজন বলে জানা গেছে। অপরজনের ঠিকানা জানা যায়নি। আটজনই বর্তমানে হাসপাতালে আছেন। ঢাকার দুইজনকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থা ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী এসব তথ্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, আক্রান্তদের তিনজনের বাড়ি সিলেটে। একজনের বয়স ৪৫, আরেকজনের ৪৩ এবং ওপরজন নারী, বয়স ৩৫। তারা দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত লাভাপিয়েসে থাকেন।
তবে করোনায় আক্রান্ত ঢাকার দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আক্রান্ত স্বামীর বয়স ৩৭, স্ত্রীর ২৬। তাদের দুইমাসের একটি বাচ্চাকে হাসপাতাল হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের অদূরে কারাবানচলে থাকেন।
করোনায় আক্রান্ত অপর দুইজনই যুবক। একজনের বয়স ২৫, অপরজনের বয়স ২৬ বছর। ২৫ বছর বয়সী যুবকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ২৬ বছর বয়সী যুবকের ঠিকানা জানা যায়নি। তারা দুইজনই রাজধানী মাদ্রিদে দীর্ঘদিন থেকে বসবাসরত।