ভর্তার বাহার জাহাঙ্গীরনগরের বটতলায়
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস খুবই পরিচিত। সবুজ লতাপাত, গাছগাছালি ঘেরা ক্যাম্পাস, পোড়া মাটি আর লাল ভবনের নয়ন জুরানো দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে জাবি ক্যাম্পাসের প্রতি নতুন আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার টং দোকানগুলো। বিভিন্ন ধরনের ভর্তার বাহার দেখা যায় খাবারের এই দোকানগুলোতে।
ঢাকার অদূরেই সাভারে অবস্থিত দেশের অন্যতম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ইট-পাথরের নগরীর পাশে ক্যাম্পাসটি যেন একখন্ড সবুজের কানন। বর্ষায় বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছগাছালিতে সবুজ রং হয়ে ওঠে আরো প্রগাঢ়, আবাসিক হলগুলো যেন এই শ্যামল চাদরের ভেতর থেকে জেগে ওঠা এক একটি কৃষ্ণচুড়া। ক্যাম্পাসে প্রবেশের পরেই একধরনের প্রশান্তি আর শীতলা ছুঁয়ে যায় মনের ভেতরটা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে ক্যাম্পাসের নিরবতা দেয় ভিন্ন এক ভাললাগা। আর রাতের গভীরতার সাথে সাথে বাড়তে থাকে এই ক্যাম্পাসের নৈসর্গিক রুপ।
ছুটির দিনে ক্যাম্পাসের ভিড় জমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের। ছুটির দিনের সময়টা উপভোগ করার জন্য এরচেয়ে ভাল জায়গা, যেখানে যাওয়া যায়, তেমনটি জানা নেই তাদের। যেখানে নির্মল বায়ু আর পাখির কিচিরমিচির ডাক শোনা যাবে।
শুধু সাবেক শিক্ষার্থীই নয়, জাবি ক্যাম্পাস আকর্ষণ করছে পুরো নগরবাসীকে। সন্ধ্যা গনিয়ে আসলেই দেখা যায় নানা পেশার মানুষের উপস্থিতি। প্রকৃতির সাথে সাথে নতুন আকর্ষণ হচ্ছে বটতলা টং দোকান। বেগুন ভর্তা, বাদাম ভর্তা থেকে শুরু করে রসুন ভর্তাসহ প্রতিটি দোকানে ২০ থেকে বিশ প্রকারের ভর্তার ফসরা দেখা যায়। কম খরচে স্বাস্থ্যকর মুখোরোচক এই ভাত-ভর্তার খাবার আপনাকে দিবে অন্যকম তৃপ্তি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ, ঢাকা কলেজ ও ইডেনের শিক্ষার্থীরা হলের খাবারে তৃপ্তি হারালে বা বন্ধুরা মিলে একসাথে বাইরে খেতে চাইলে যেমন স্টার কাবাব বা পুরান ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ভিড় জমান, জাহাঙ্গীরনগরের বিভিন্ন হলের বন্ধুরা ভিড় জমান এই বটতলায়। শাক সবজি আর সাদা ভাতে দারুণ তৃপ্তি আর যানবাহনের গোলযোগ শূণ্য পরিবেশে আড্ডাও জমে বিন্দাস।
খাবারের দোকানগুলোতে প্রতিদিন দুপুরে এবং রাতে দেখা যায় ঘুরতে আসা বিপুল মানুষকে। যাদের ঘুরতে আসার শেষটা হয় বটতলার খাবার খেয়ে।
ওমর ফারুক নামে সাভার পৌর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, পরিবারের সাথে থাকলেও এসব খাবার তৈরি করে খাওয়া হয়না। আমাদের খাবার-দাবার কিছু নিদির্ষ্ট মাছ, মাংস আর তরকারির মধ্যে সীমাবন্ধ। ওসব খেতে খেতে মাঝে মাঝে এক ধরনের রুচিহীনতা তৈরী হয়। তখন খাবারের ভিন্নতা আনতে আমরা পরিবার সহ মাঝে মাঝে এখানে ছুটে আসি। এতে ভিন্ন ভাললাগা কাজ করে। আর সবুজের মাঝে হাটি হাটি করে খেতেও ভাললাগে।