২১ জুলাই ২০১৮, ০০:৩৮

তীব্র গরমে বাড়ছে রোগব্যাধি

প্রতীকি ছবি

দেশব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা, গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ-সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। তীব্র গরমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগব্যাধি বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সময়ই মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই এ সময়ে সতর্ক হয়ে না চললে যে-কোনো সময়ই আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। গরমে সাধারণত যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে তা নিয়েই আজকের আলোচনা-

শিশুদের জন্য বিশেষ সাবধানতা 
এই গরমে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকটি বিশেষভাবে ভাবতে হবে। শিশুদের জন্য বাইরের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে ঘরে তৈরি টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে, এই গরমে নবজাতক ও ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয়বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। যদি কম হয়, সেক্ষেত্রে পানি বা তরল খাবার বাড়িয়ে দিতে হবে।

গায়ে র‌্যাশ ও ঘামাচি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশেষ ওষুধের দরকার নেই। ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিতে হবে এবং ঠান্ডা বা নিরাপদ পরিবেশে শিশুকে রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসল ও দিনে দুই থেকে তিনবার শরীর মুছে দিতে হবে। নবজাতকদের জন্য বুকের দুধ বারবার খাওয়াতে হবে। নরম ও পাতলা কাপড় পরাতে হবে। 

গরমে বয়স্কদেরও প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা 
গ্রীষ্মের এই গরমে বয়স্কদেরও প্রয়োজন বাড়তি যতেœর। কারণ বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ, আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা-বেদনা ইত্যাদি। তাছাড়াও প্রচন্ড গরমে বয়স্কদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- শরীরের পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোক, হজমের সমস্যা, ত্বকের সমস্যা ইত্যাদি। 

পানিস্বল্পতা
গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয়, তা হলো পানিস্বল্পতা। প্রচুর ঘামের কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ ও পানি বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরের রক্তচাপ কমে যায়, দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে। পানিস্বল্পতা গরমে সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি, যারা বাইরে কাজ করেন, প্রয়োজনমতো পানি পান করার সুযোগ পান না, তারাই মারাত্মক পানিস্বল্পতায় আক্রান্ত হন। এ সময়ে শরীরের কোষ সজীব রাখতে প্রচুর পানি খেতে হবে। ইলেকট্রোলাইটসের অভাব পূরণ করতে খাবার স্যালাইন খাওয়া যেতে পারে। পানির সঙ্গে অন্যান্য তরল, যেমন-ফলের রস খাওয়া যেতে পারে।

গরমে আরও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যেমন-প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া ও যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে হবে। বাইরে বের হলে রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করতে হবে। পরনের কাপড় হতে হবে হালকা, ঢিলেঢালা, সুতির। প্রয়োজনমতো গোসল করতে হবে এবং শরীর ঘাম ও ময়লামুক্ত রাখতে হবে। 

হিট স্ট্রোক
প্রচ- তাপপ্রবাহে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয় হিট স্ট্রোক তার অন্যতম। এটি একটি জরুরি মেডিকেল অবস্থা। এতে দ্রুত ও সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে মৃতু্যুও হতে পারে। 

মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই তাপমাত্রা যদি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যায়, তখন মারাত্মক হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। সাধারণত চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বৃদ্ধরা; যাদের গরম সহনীয় ক্ষমতা কম, যারা কিডনি, হার্ট, লিভার, ডায়াবেটিকের রোগী, যথেষ্ট পানি পান করে না, এমন লোকজন অথবা যাদের শরীর খুব দুর্বল, ক্রীড়াবিদ, ব্যায়ামবিদ এবং প্রচ- রোদে কাজ করেন, এমন লোকজন, যাদের ওজন বেশি বা অনেক কম তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির তাপমাত্রা কমাতে ঠান্ডা বা বরফ পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে, পা উঁচু করে দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে এনে বা ফ্যান ছেড়ে শীতল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। থার্মোমিটার দিয়ে বারবার তাপমাত্রা মাপতে হবে এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত ঠান্ডা দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে। তবে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিতে হবে।