২৪ জুন ২০১৮, ২২:২২

গরমের পথ্য গ্রীষ্মকালীন ফল

গরমে শারীরিক সমস্যাগুলো একটু বেশি দেখা দেয়। প্রথম ঋতু পরিবর্তন এবং দ্বিতীয় গরম অর্থাৎ তাপমাত্রাজনিত সমস্যা। এ সময়ের প্রধান অসুখ ভাইরাল ফিভার, জন্ডিস, চিকেন পক্স, ডায়রিয়া। এছাড়া বাতাসে প্রচুর ধুলাবালি থাকার কারণে ডাস্ট এলার্জি, এজমা, নাক দিয়ে পানি পড়া ও সাইনোসাইটিসের সমস্যা দেখা যায়। ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাদ্য পথ্য ও ফলমূল গ্রহণ করলে এ সময় রোগ আরোগ্য দ্রুত হয়। লিখেছেন- ডা. আলমগীর মতি

গরমের কারণে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। এজন্য শরীরে পানির স্বল্পতা ও ইলেক্ট্রোলাইটের অসাম্যতা দেখা যায়। ফলে সহজেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং অবসাদ বোধ করে। গরমের এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এ সময়ের কিছু ফল গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাদ্য পথ্য ও ফলমূল গ্রহণে রোগ আরোগ্য দ্রুত হয়। আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় এসব ফলমূল নিয়ে।

আম
পাকা আম নানা রকম পুষ্টি দেয় ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। আমের মধ্যে রয়েছে- আয়রন, ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি। এগুলো শরীরের নানা উপকারে আসে। আমে পটাশিয়াম থাকায় হার্টবিট ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ত্বক সুন্দর রাখে ও লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আমে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, ভিটামিন, মিনারেল ও এন্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও আম কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, লিউকেমিয়াসহ প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

জাম
মার্টেসি গোত্রভুক্ত বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ জাম গাছ নিবিড় ছায়াদানকারী এবং এর কাঠ আর্দ্রতাসহিষ্ণু, দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশে এই গাছ ফলের জন্য লাগানো হয়। ফল পাকলে এর বাইরের অংশ ঘন ও কালো রঙের হয় এবং ভেতরের অংশ লাল রঙের রসে ভরে ওঠে। পাকা জাম বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। পরিশ্রæত জামের রস সিরকার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জামের রস রক্তবর্ধক ও রক্তপরিষ্কারক।

তাল
তাল গাছ খুব বড় হয়। এ গাছের কোনো শাখা-প্রশাখা নেই। তাল গাছের ফল গ্রীষ্মকালে পাকে। পাকা ফলে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন আছে। এই ফল খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকা তালের রসের পিঠা গ্রামীণ বাংলাদেশের অনেকেরই প্রিয় খাদ্য, তাল গাছের রস ঘন ও উন্নত পানীয়। এই রস স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা যায়। এছাড়া তালের রসের চিনি থেকে তালমিছরি প্রস্তুত করা হয়। তালমিছরি কাশির জন্য উপকারী।

তরমুজ
তরমুজ আমাদের দেশের একটি অতি পরিচিত এবং সবার প্রিয় ফল। তরমুজে আছে লাইকোপেন, এমানো এসিড, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং পানি। অতিরিক্ত ঘাম এবং তৃষ্ণা দূর করতে তরমুজের রস খুবই কার্যকর। কাজের কারণে ক্লান্তি যতই আসুক তরমুজের রস খেলে অল্প সময়েই ক্লান্তি দূর হয়। এছাড়া তরমুজের বীজ বেটে ঠাণ্ডা পানিতে চিনিসহ মিশিয়ে খেলে প্রস্রাবের জ্বালা, প্রস্রাবের স্বল্পতা দূর হয় এবং প্রস্রাবের ফ্লো ঠিক রেখে কিডনি পরিষ্কার রাখে। ব্রংকাইটিস বা এজমা, হেপাটাইটিস এবং হজমেও তরমুজ সাহায্য করে।

পেঁপে
পেঁপে প্রায় সারাবছরই পাওয়া যায় তবে এটা মূলত গ্রীষ্মেরই ফল। পেঁপেতে আছে প্যাপাইন নামক এক প্রকার হজমকারক উপাদান। পানি কম খাওয়ার জন্য অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায়। এ সমস্যা দূর করতে পাকা পেঁপে অত্যন্ত কার্যকর। কাঁচা পেঁপে ডায়রিয়া ও জন্ডিসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে জুস করে খাওয়া যায়। পেঁপের জুস খুবই পুষ্টিকর এবং প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও রক্ত পাইলস নিরাময়ে কার্যকর।

লেবু
লেবুর শরবত কার না ভালো লাগে। প্রচন্ড মাথাব্যথার সময় এক কাপ লেবু চা যে কি উপকারী তা বলে বোঝানো যাবে না। গরমে ঘামার পর লেবুর শরবত দেহে আনে প্রশান্তি। পেট ফাঁপা, পেটে সমস্যা, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশিতে লেবু খুবই উপকারী। লেবুতে আছে ভিটামিন সি, লিমোনিন, টারপিন ও অন্যান্য উপাদান। জ¦র ও মুখের ঘা দূর করতে লেবুর ভ‚মিকা অনন্য।