ভোটে প্রার্থী-ভোটার-এজেন্টদের জন্য ইসির একগুচ্ছ বিধিনিষেধ—যা করা যাবে, যা যাবে না
অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ও বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই সাথে দেশজুড়ে একযোগে চলবে ঐতিহাসিক গণভোট। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো বৃহৎ গণতান্ত্রিক পরীক্ষা। ঐতিহাসিক এই দিনের জন্য প্রস্তুতও রয়েছে দেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেবেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবার নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যার ব্যবধান খুবই কম, ৬ কোটি ৪৮ লাখ পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২২০ জন ভোটারও তাদের রায় দেবেন।
ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে বিকেল ৪টার মধ্যে যারা কেন্দ্রে পৌঁছে লাইনে দাঁড়াবেন, তারা সময় শেষ হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এবার নির্বাচন কমিশন মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ভোটাররা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ছবিও তুলতে পারবেন, তবে গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার বা ব্যালট পেপারের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ছোট পার্স ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাগ বহন করা যাবে না।
ভোটাররা যেকোনো মার্জিত পোশাক পরে কেন্দ্রে যেতে পারবেন। তবে নিরাপত্তার খাতিরে যদি কোনো ভোটার নেকাব পরে থাকেন, তবে পোলিং এজেন্টের অনুরোধে পরিচয় নিশ্চিত করতে তাকে একবারের জন্য মুখমণ্ডল দেখাতে হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরণযোগ্য দ্রব্য বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এনআইডি কার্ড সাথে রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণে সুবিধা হবে।
আরও পড়ুন: আজ থেকে সারা দেশে বন্ধ হলো মোটরসাইকেল চলাচল
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখে আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। এরপর প্রিজাইডিং অফিসার ভোটারকে দুটি আলাদা ব্যালট পেপার দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। ভোটারকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে ব্যালট পেপারের পেছনে অফিশিয়াল সিল এবং প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে।
গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ঘরে স্পষ্টভাবে রাবার স্ট্যাম্পের সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালটটি লম্বালম্বিভাবে এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে। এরপর স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে তা ফেলে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
এছাড়াও ভোটের দিন প্রার্থীর পক্ষ থেকে অথবা প্রার্থী নিজেই ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের মিছিল বা জমায়েত করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
ভোটের দিন ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থী ও তার নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন (জিপ, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিকশা) ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রতিটি গাড়িতে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত গানম্যান থাকলে তাকেও এই পাঁচজনের মধ্যে গণ্য করা হবে।
যেসব এলাকায় মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়, সেখানে প্রার্থী ও তার নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) অনধিক দুজন অবস্থান করতে পারবেন।
নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে নৌযান চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন করে চলাচল করতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট ও গানম্যান ছাড়া যানবাহনে অবস্থানকারী অন্যদের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত স্টিকার-সংশ্লিষ্ট যানবাহনে প্রদর্শন করতে হবে।
এ ছাড়া প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্ট ব্যতীত তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।