১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৫

গণপিটুনিতে নিহত সেই দীপু দাসকে ৫০ লাখ টাকার সহায়তা দিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ সরকারের লোগো  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার যুবক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৮ ডিসেম্বর কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে দীপু দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার এই ঘটনায় নিহত দীপু দাস ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি যে চরম সংকটে পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে দীপু দাসের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সে সময় তিনি তাদের বাসস্থানের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণসহ সার্বিক সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এখন আর্থিক সহায়তার বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই পুরো সহায়তা কার্যক্রমটি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।

সহায়তা প্যাকেজের আওতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দীপু দাসের পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া নগদ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দীপু দাসের পিতা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তার সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ৫ লাখ টাকার একটি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে সরকারের এই সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ লাখ টাকা।

এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার বলেন, ‘দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারেরকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে।’ 

তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত‍্যা করা হয়েছে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন‍্যায় বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।’

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি—যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না।’ 

উল্লেখ্য যে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং দোষী প্রত্যেককে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে।