০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৫

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ ভারত পতাকা  © সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের আরও বেশ কিছু রাষ্ট্রকে এই আমন্ত্রণ জানানো হলেও নয়াদিল্লি এখন পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। খবর ইন্ডিয়া টুডে। 

নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে ১৬টি দেশ এবং ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নির্বাচনে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ক এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এই তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ আমন্ত্রিত বেশ কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করেনি।’ 

ভারত ছাড়াও নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়ার মতো দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যারা বর্তমানে প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ব্যাপক সাড়া নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৫ জন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইআরআই ও এনডিআই -এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস ও সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থাগুলোর ৩২ জন প্রতিনিধি ব্যক্তিগতভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এর ওপর দেশব্যাপী গণভোটও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন ও এনজিওগুলো কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। 

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এবারের নির্বাচনে নিশ্চিত হওয়া পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।’ ১২ ফেব্রুয়ারির এই দ্বৈত ভোটগ্রহণকে ঘিরে দেশি-বিদেশি মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার বিদেশি অতিথিদের আতিথেয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।