২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৯

তিন কারণে বিলম্বিত হতে পারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল

নির্বাচন কমিশন  © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনায় এবার অতীতের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘গণভোট’ অনুষ্ঠান এবং বড় পরিসরে ‘পোস্টাল ব্যালট’ গণনার বাড়তি চাপের কারণে এই বিলম্ব হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাতে এবং সম্প্রতি সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনায় থেকে এই তথ্য জানা যায়। 

বিলম্বের প্রধান তিন কারণ:

১. এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ভিন্ন ব্যালটে ভোট দেবেন—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের জন্য। উভয় ব্যালটই একই বাক্সে জমা পড়বে। ফলে গণনার আগে ব্যালটগুলো আলাদা করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হবে। সাধারণত একটি ব্যালট গুনতে যে সময় লাগে, এবার দুই ধরনের ব্যালট বাছাই ও গণনায় তার দ্বিগুণ সময় ব্যয় হতে পারে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী

২. এবারই প্রথম বড় পরিসরে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন। এই ব্যালটগুলো দুই পাতার এবং এতে ১১৯টি প্রতীক রয়েছে। ভোটাররা সিলের পরিবর্তে কলম দিয়ে টিক চিহ্ন ব্যবহার করায় প্রতিটি ব্যালট সূক্ষ্মভাবে যাচাই করে গুনতে হবে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ।

৩. পোস্টাল ব্যালটের ভোটগুলো সরাসরি ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাবে। সেখানে পৃথক কক্ষে বিকেল সাড়ে ৪টার পর গণনা শুরু হবে। ফলাফল কেন্দ্রে প্রকাশ করার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকল কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের হিসাব যোগ করে চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ৭ লাখ ৬০ হাজারসহ মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে ফেনী-৩ আসনে সবচেয়ে বেশি (১৬ হাজার ৩৮ জন) এবং বাগেরহাট-৩ আসনে সবচেয়ে কম (১ হাজার ৫৪৪ জন) ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হলে সাধারণত জনমনে বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয় যে, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট যোগ হওয়ায় এবার ফলাফলের জন্য গভীর রাত বা পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রের ফলাফল সাধারণত ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলেও পোস্টাল ব্যালটের কারণে পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে দেরি হবে।

গত ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে এদিন বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শফিকুল আলম বলেন, এ বছর সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি রয়েছে একটি রেফারেন্ডাম, রয়েছে পোস্টাল ব্যালট, যার কারণে ভোট গণনায় কিছু দেরি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় প্রচুর সময় লেগেছে, যা সাধারণ মানুষের আলোচনার খোরাক হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোট গণনায় সপ্তাহ গড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় কত দিন লাগবে তা নিয়েও মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।