ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোল নিয়ে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যা দিল জেলা প্রশাসন
স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোল নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সত্য নয় বলে যশোর জেলা প্রশাসন দাবি করেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া সেল) আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এর একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে, যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।
এছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়নি, এধরনের তথ্যও মিথ্যা জানিয়ে জেলা প্রশাসন বলছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো হলো। সাথে সাথে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য অনুরোধ করা হলো।
আরও পড়ুন: কারা ফটকে স্ত্রী-সন্তানকে শেষ বিদায় জানালেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাট থেকে মরদেহ দুটি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হলে সেখান থেকে শেষ বারের মত বিদায় জানান সাদ্দাম। পরে রাতে জানাজা শেষে মা ও ছেলেকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্বজন ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামী দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় এবং তাকে মুক্ত করতে না পারার মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। পুলিশ স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং মেঝে থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে।
স্বজনদের মতে, স্বর্ণালী হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রথমে শিশুটিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজে গলায় ফাঁস নেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে যেসব বিষয়ের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।