খেজুর দিয়ে কেন ইফতার করবেন?
শুরু হয়েছে মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান। এ মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থেকে রোজা রাখেন। সূর্যাস্তের পর খাবার গ্রহণ করে রোজা ভঙ্গ করেন তারা, যেটাকে বলা হয় ইফতার। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) মুসলমানদের খেজুর দিয়ে ইফতার করতে উৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি কোরআনের অনেক জায়গায় খেজুরের কথা উল্লেখ আছে।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। সারাদিন রোজা রাখার পর ক্লান্ত শরীরে ঝটপট শক্তি জোগাতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। যে কারণে বছরের পর বছর ধরে রোজাদারদের খাবার তালিকায় খেজুর ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শক্তি জোগানো ছাড়াও খেজুরের আরো কিছু পুষ্টিগুণ আছে। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে, যা অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে।
পুষ্টিবিদদের মতে,খেজুর অসাধারণ একটি খাবার, কারণ এতে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট উভয়ই থাকে। অর্থাৎ এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘক্ষণ ধরে কিছু খাননি তাদের জন্য এটি আদর্শ। এছাড়া খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এটি।
খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবেই এটিতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে দ্রুত পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, ‘অনেকে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন এবং পানিও পান করেন। এটি শক্তির জন্য চমৎকার, পাশাপাশি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। খেজুর খাওয়ার পরে, সাধারণত অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।’
খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎসও বটে, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগ প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দেয়।