অটোপাস করা শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় কি সমস্যায় পড়বেন?

জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে
ইউরোপে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে  © বিবিসি

করোনাভাইরাসের কারণে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অটোপাস দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের বিদ্যমান আসনের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরমধ্যে অনেকেই কিাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। এজন্য তাদেরকে কারগরি শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তবে অটোপাস করা এসব শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়বেন কিনাসে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে এমন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সারাবিশ্বই একই ধরনের সমস্যায় আছে। আর অটোপাস হলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিটি সাবজেক্টের আলাদা নম্বর ও গ্রেড রয়েছে। ফলে যারা বিদেশে শিক্ষার জন্য যেতে চান তাদের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না।

এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এইচএসসিতে মোট পাস করেছেন ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুসারে, উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্নাতক সম্মান, স্নাতক পাস ও সমমান কোর্সে ১৩ লাখ ২০ হাজারের মতো আসন রয়েছে।

এখন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী কোথায় ভর্তি হবে? জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সবার উচ্চশিক্ষা কেন নিতে হবে? সারাবিশ্বে তো কোথাও সবাই উচ্চশিক্ষা নেয় না। কারিগরি যেসব শিক্ষা আছে, পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কলেজ আছে তারা সেখানে ভর্তি হবেন।’

বুয়েটের অধ্যাপক শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে তাদের কতভাগের কাজের সঙ্গে শিক্ষার মিল থাকে? এটা তো আমি মনে করি অপচয়। এ কারণে বলি, সবার উচ্চশিক্ষার দরকার কী? কারিগরি শিক্ষা নিক৷ আমরা কম্পিউটার বানাতে পারব না? কিন্তু কম্পিউটার মেরামত করে সেটা কর্মক্ষমতা তো বাড়াতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আবার ১০ কোটির বেশি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। যারা দেখে শিখেছে তারা তো সাধারণ মোবাইল ফোন সারতে পারেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা নিয়ে তারা এ ব্যাপারে দক্ষ কারিগর হতে পারেন। এভাবে টিভি-ফ্রিজের দক্ষ কারিগর তারা হতে পারে।’ বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের এ অটোপাশের কারণে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

অটোপাশের ফলে যারা বিদেশে পড়তে যাবেন তারা কী কোন ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্লোবাল স্টাডি কানসালটেন্টের সিইও শফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, ‘আমার মনে হয় না, তারা কোন সমস্যায় পড়বেন। কারণ সব সাবজেক্টের জন্য তো আলাদা নম্বর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের গ্রেডও আছে৷ আর বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আগে তো নিজেদের স্কিল প্রমান করতে পরীক্ষা দিতে হয়। ফলে এখানে খুব একটা সমস্যা হবে না। সারা বিশ্বই তো করোনার কারণে ঠিকভাবে পরীক্ষা নিতে পারেনি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ