১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৪৭

আবৃত্তি অঙ্গনে সুপরিচিত নাম নাহিদ নেওয়াজ

নাহিদ নেওয়াজ  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবৃত্তি অঙ্গনে সুপরিচিত নাম নাহিদ নেওয়াজ। উপস্থাপনা ও অভিনয়ে অনন্য। বিতর্ক, লেখালেখি এবং গান গেয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সংস্কৃতি চর্চার সবখানেই যেন তাঁর পদচারণা সরব। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  

নাহিদ নেওয়াজের জন্ম খুলনা জেলায়। চার ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বর্তমানে পড়ছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে। এর পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পড়ান চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে।

নানা অঙ্গনে কাজ করলেও আবৃত্তি শিল্পী হিসাবে বেশ পরিচতি নাহিদ নেওয়াজ। আবৃত্তির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেছেন বরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী হাসান জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে। ২০১৭ সালে নিজের প্রথম আবৃত্তি অ্যালবাম ‘পরিচয়’ বের করে সাড়া জাগিয়েছেন আবৃত্তি জগতে। অ্যালবামটি তিনি মা ও মনের মানুষকে উৎসর্গ করেন।

বাবা মোস্তফা ঢালী ও মা সুলতানা বেগমের উৎসাহে ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে তৎপর ছিলেন নাহিদ। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকেই লেখালেখি ও আবৃত্তি জগতে যাত্রা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। শিশু একাডেমির রচনা প্রতিযোগিতায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। খুলনা ডিবেটিং সোসাইটির হয়ে অংশ নিয়ে জাতীয় বির্তক প্রতিযোগিতায় অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক খেতাব। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্কুলশিক্ষকের অনুপ্রেরণায় যুক্ত হন খুলনা লেখিকা সংঘে। লেখালেখির পাশাপাশি গানের প্রতিও ছিল আগ্রহ। পারিবারিকভাবে গানের প্রতি সমর্থন না থাকায় ওভাবে করা হয়ে ওঠেনি। পরে বন্ধুদের উৎসাহে রবীন্দ্র সংগীত শিখেছেন। সংগীত গুরু চট্টগ্রাম বেতারের সৈয়দুল ইসলামের কাছ থেকে তালিমও নিয়েছেন। এখনও নিয়মিত রবীন্দ্র সংগীতের চর্চা করার চেষ্টা করেন। 

সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি একজন সংগঠকও নাহিদ নেওয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই বন্ধুদের নিয়ে ‘উন্মীলন শিল্প ও সাহিত্য ভুবন’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন করেন। শহরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষকরা ক্লাস নিতেন সেখানে। একপর্যায়ে নিজেই কিছু করার চিন্তা ভাবনা থেকে ‘শব্দ নোঙ্গর’ আবৃত্তি সংগঠনে আবৃত্তি চর্চায় মনোযোগ দেন তিনি। আবৃত্তি অঙ্গনে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার পাশাপাশি উপস্থাপনাও শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর উপস্থাপনা করছেন বেশ সুনামের সাথে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের কর্মশালায় আবৃত্তি ও উপস্থাপনার ওপর ক্লাসও নেন। 

শাটল ট্রেনে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় সাহসী ও প্রতিবাদী ভূমিকা রাখায় ‘সাহসিকা জননী’ উপাধি পান নাহিদ নেওয়াজ। তাঁর ভাষ্যে, বন্ধুসভার সভাপতি, ফলিত রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমাকে এ উপাধি দেন। এটি অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা ছিলো আমার জন্য।

পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশে শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা জরুরি বলে মনে করেন নাহিদ নেওয়াজ। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমার মনে হয় সাংস্কৃতিক চর্চা আত্মহত্যা, মাদকাসক্ত এবং মানসিক অসুস্থতা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। তাই কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্য সংস্কৃতির অংশ হিসেবে শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও প্রবীণ ব্যক্তিদের একাকীত্ব ঘোচাতে নানামুখী কাজ করতে চাই। ’