বড়পর্দায় চলবে শাটল ট্রেন
১৯৮১ সাল থেকে পথচলা শুরু হয় শাটল ট্রেনের। এখনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে এই শাটল ট্রেন। এটা শুধু যাতায়াতের মাধ্যমই নয় বরং একটি মঞ্চও বটে। আর এই মঞ্চের শিল্পী, অভিনেতা, খলনায়ক সবাই হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রতিদিনের যাত্রায় বগির দেয়ালে ‘ড্রাম’ চাপরানো, উচ্চস্বরে গান গেয়ে পুরো ট্রেন মাতিয়ে রাখা এ যেন শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের অভ্যাস। কেউ এ মঞ্চের শিল্পী আবার কেউ দর্শক। কেউবা আবার ট্রেনের বগিতে গান গেয়ে গেয়েই হয়ে উঠেছেন দেশের নামকরা শিল্পী। শিল্পী নকীব খান, পার্থ বড়ুয়া, এস আই টুটুলসহ আরো অনেকেই ছিলেন এই শাটল ট্রেনের মঞ্চ কাঁপানো শিল্পী। শুধু গান দিয়ে শাটল ট্রেনকে বিচার করা যাবে না। কারণ এই শাটলকে ঘিরেই গড়ে ওঠেছে হাজারো গল্পকথা, অগণিত প্রেমকাহিনী।
শাটল ট্রেন আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন একসূত্রে গাঁথা। এই শাটল ট্রেনকে ঘিরেই রচিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাসি-কান্না, প্রেম-ভালোবাসা ও আনন্দ-বেদনার মহাকাব্য। এই মহাকাব্যের কিছু সময়, কিছু ঘটনা আর অনুভূতি নিয়ে এবার নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শাটল ট্রেন’।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ডিসেম্বরের মধ্যেই ‘শাটল ট্রেন’ চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেবার পরিকল্পনা রয়েছে চলচ্চিত্রটি।
রাজধানীর লালমাটিয়ায় চারুপ্রাঙ্গণ আর্ট গ্যালারীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক রিফাত মোস্তফা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের ছাত্রী মোহসেনা ঝর্ণার ‘বহে সমান্তরাল’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন ৩৪তম ব্যাচের চারুকলা বিভাগের সাবেক ছাত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ। এতে প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ৩৪তম ব্যাচের ফিন্যান্স বিভাগের রিফাত মোস্তফা।
চলচ্চিত্রটিতে থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রেম-রসায়ন, বিচ্ছেদ ও শিক্ষাঙ্গনের নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ কাহিনী। এতে আরও থাকছে ছয়টি মৌলিক গান। যার গীতিকার এবং সুরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ট্রেনের বগি ভিত্তিক বেশ কয়েকটি গানের অংশ রয়েছে এতে। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
এই চলচ্চিত্রটি একযোগে সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শন করা হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ ক্যাম্পাসে ৭ দিনের প্রদর্শনী উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে চলচ্চিত্রটির টেলিভিশন প্রিমিয়ার করা হবে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের গণ-অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি।