১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৯

এইচএসসি নিয়ে অভিভাবকদের ৬ প্রস্তাব, ইতিবাচক মন্ত্রণালয়ও

  © ফাইল ফটো

করোনার কারণে কয়েকদফা বাড়ানোর পর আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এই ছুটি আরও বাড়ানোরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা কবে হবে তা নিশ্চিত নয়। এতে চুশ্চিন্তায় দিন কাটছে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর। এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষ করেই যেন সরকার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করে। নইলে শেখা ও জ্ঞান অর্জনের ঘাটতি পরবর্তী জীবনে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। রাজধানীর নজরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক গত ৮ সেপ্টেম্বর ৬ দফা প্রস্তাব সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে দেন।

তিনি ৫০ করে ১০০ নম্বরে বাংলা দুই পত্র, একইভাবে ইংরেজির দুই পত্র পরীক্ষা গ্রহণের কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞানের বিষয়ে তত্ত্বীয় ৭৫ নম্বরের পরীক্ষা ও ব্যবহারিকের ২৫ নম্বর দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ ও মানবিকের একটি করে বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়ার পর বাকিগুলো ঐচ্ছিক ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও চিন্তাভাবনা করছে। সেজন্য সিটপ্ল্যানও সংগ্রহ করেছে বোর্ডগুলো। সে মোতাবেক, তিন ফুট দূরত্ব রেখে ‘জেড’ সিস্টেমে বসানো হবে শিক্ষার্থীদের। নভেম্বরে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের অতীতের জেএসসি-এসএসসির ফলের ভিত্তিতে গ্রেড দেয়া কিংবা স্বল্পপরিসরে পরীক্ষা নেয়া। এ দুটি না হলে আগামী মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যৌক্তিক কারণেই এসএসসি ও এইচএসসির সিলেবাস কমানোর সুযোগ নেই। গোটা পাঠ্যবই শেষ করেই পরীক্ষা হবে। সিলেবাস শেষ করতে কতদিন প্রয়োজন হবে এখনই বলা যাচ্ছে না। কবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তা অনিশ্চিত। পরীক্ষা পেছানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন ও বাকি অংশের মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, করোনার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়েই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার চিন্তাভাবনাও চলছে। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষা গত এপ্রিলে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন থেকে ঝরে গেছে ৫ মাসের অধিক সময়। যথাসময়ে পরীক্ষা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও শেষ পর্যায়ে থাকত। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সরকারি সিদ্ধান্ত পেলেই রুটিন প্রকাশ করা হবে।