বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কেন সারাজীবন রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত গায়?

বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কেন সারাজীবন রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত গায়?
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী  © ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কেন সারাজীবন ধরে রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত গায় এ নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মনে। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন। 

তিনি লিখেন, আমাদের মতো আর কোনো দেশে কি দলে দলে ছেলেমেয়েরা কোনো বিশেষ গীতিকার/সুরকারের গান শেখে, তারপর সারাজীবন ধরে ঐ গানই গায়? বলতেছি রবীন্দ্র আর নজরুল সংগীতের কথা। মানে অন্য দেশে নাই বলে আমাদের দেশে হতে পারবে না- সেটা বলতেছিনা। 

জানতে চাচ্ছি এই প্র্যাকটিসটা অন্য কোথাও আছে কিনা? যদি অন্য কোথাও না থাকে তাহলে কেনো নাই? আমাদের এখানে থাকলে কেনো আছে? বোঝার চেষ্টা করতেছি!

মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব আবদুন নুর তুষার সেই পোস্টে কমেন্ট করেন, ওরা এরকম দলে দলে মোজার্ট বিটোফেন চাইকোভ্স্কি বাজায়। ঘরে পিয়ানো কেনে। ওদের সংগীত হলো সুর ও যন্ত্র। আমাদের বেলায় কন্ঠ ও ভাব। 

আরও পড়ুন: ৪ শর্তে মোটরসাইকেল চলাচলের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ

লেখক ইশতিয়াক আহমেদ কমেন্ট করেন, ভাই, আমার কাছে এর বড় কারণ মনে হয়, আমাদের নিজেদের নবায়ন কম। সাংস্কৃতিক নবায়ন কম। আমাদের নতুন কেউ নেই। আসছে না। আসতে পারছে না। নতুন কিছু করার, ভাববার, নতুন পথ দেখাবার মানুষ কম। যারা ভাবাতে চায়, করে দেখাতে চায় রাষ্ট্রই তাদের প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, পথ রুদ্ধ করে দেয়। রাষ্ট্র সবসময়ই চলমান এবং প্রচলিত পথকেই নিরাপদ মনে করে।

তাই জনগন, সংস্কৃতি চর্চায় আগ্রহী মানুষগুলোও যুগের পর যুগ ধরে প্রথাগত এবং ঐতিহ্যগত বিষয়গুলোতেই নিবেদিত থাকে।
অতি রাজনীতির ফয়েল পেপারে আটকানো এদেশের সৃজনশীলতার দুনিয়াও নতুন কাউকে সার্বজনীন হতে দিচ্ছে না।

বিদেশের বেলায় সেটা না হওয়ার বড় কারণ, প্রতিটি জেনারেশনে একেকজন কিংবদন্তী তৈরি হচ্ছেন। সংস্কৃতির একজন নতুন পথ নির্মাতা সৃষ্টি হচ্ছে। সম্মান পাচ্ছেন। তাকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে। তারা একই জায়গায় আটকে থাকছে না। পুরাতনকে যেমন সম্মান দিচ্ছে, আবার নতুনকেও সমানভাবে গ্রহন করছে। 


x