মারা গেলেন পাকিস্তানি ‘মিম’ স্টার ও সঞ্চালক আমির লিয়াকত
পাকিস্তানের করাচিতে নিজ বাসায় মৃত্যু হয়েছে জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) আইনপ্রণেতা ড. আমির লিয়াকতের। আবেগঘন ভিডিওতে ‘পাকিস্তানকে বিদায়’ জানানোর এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
আমির লিয়াকত পেশায় একজন সঞ্চালক হলেও আমাদের মধ্যে অনেকেই তাকে সামাজিক মাধ্যমে বহুবার শেয়ার করা এক ভিডিও থেকে চিনি।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার করাচিতে অবস্থিত খুদাদ কলোনিতে নিজের বাড়ি থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আমিরকে উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার রাতেই অসুস্থ বোধ করছিলেন আমির। কিন্তু হাসপাতালে যেতে চাননি।
অপর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার পারভেজ আসরাফ। আমিরের প্রয়াণে শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন স্থগিত করা হয়।
আরও পড়ুন: মোবাইল হারিয়ে গেলে দ্রুত যেসব কাজ করবেন
কিছু সূত্র এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানায়, উপস্থাপকের ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। তার গৃহকর্মী জাভেদ বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েকবার দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও কোনো সাড়া পাননি। জাভেদ জানান, বুধবার রাতে বুকে ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন আমির।
গৃহকর্মী জাভেদ জানান, বুধবার রাতভর কান্না করছিলেন আমির। তিনি মারা যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছিলেন।
জাভেদ বলেন, ‘তিনি (আমির) বারবার বলছিলেন, সে আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমি জানি না, সে আমার ওপর কালো জাদু করেছে কি না, বুঝতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে, আমি মারা যাচ্ছি।’
জাভেদ জানান, তিনি আমিরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জবাবে আমির তাকে জানিয়েছেন, তার স্ত্রী এটা করেছে।
আমিরের মৃত্যুতে অন্য কোনো পক্ষের হাত দেখছে না পুলিশ, তবে ময়নাতদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
১৯৭২ সালের ৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আমির লিয়াকত। করাচিভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুত্তাহিদ কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানে (এমকিউএম-পি) যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে অভিষেক হয় তার। পরবর্তী সময়ে সাবেক ইমরানের দল পিটিআইয়ে যোগ দেন তিনি।
পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সময়ে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আমির। তিনি ২০০২ এবং ২০১৮ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। রোজার মাসে টেলিভিশন শো উপস্থাপনা করতেন ড. আমির। ইফতারের আগে-পরে শো প্রচার করা হতো।
২০০১ সালে একটি প্রাইভেট চ্যানেলের মধ্য দিয়ে শোবিজ ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। ‘আলিম অনলাইন’ নামের একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে শুরুর দিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি।