০৪ জুন ২০২৩, ০১:১১

স্ত্রীরা সবসময় সঠিক, এটাই সুখী সংসারের মূলমন্ত্র: অমিতাভ বচ্চন

অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন   © ফাইল ফটো

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ তারকার ক্ষেত্রেই বিয়ের কিছুদিন বাদেই দেখা যায় বিচ্ছেদের সুর। সংবাদ মাধ্যমেই বেশ আলোচনা হয় এসব বিচ্ছেদ নিয়ে। একারণে অধিকাংশ মানুষের ধারণা তারকাদের সংসার বেশিদিন টেকে না। তবে এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন অমিতাভ বচ্চন এবং জয়া বচ্চন।

এই তারকা দম্পতি তাদের বিয়ের ৫০ বছর পার করেছেন। ১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁরা। পরষ্পরের পছন্দে বিয়ে হলেও ৫০ বছর আগে অমিতাভের কিছু শর্ত মেনে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল জয়াকে। 

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বিয়ের আগে অমিতাভ জয়াকে শর্ত দিয়েছিলেন কাজ নিয়ে। অমিতাভ বলেছিলেন, নিয়মিত কাজ করা যাবে না। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কাজে যাওয়া যাবে না। এমনকি সব প্রজেক্টেও কাজ করা যাবে না। আর জয়া তা মেনেও নেন।

এছাড়া, বেশ আয়োজন করে বিয়ের কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত এই দম্পতির বিয়েও হয়েছিল অনেকটা হুট করেই। তাদের বিয়ে হওয়ার করার কথা ছিল ১৯৭৩ সালের অক্টোবরের দিকে। কারণ, ওই সময় জয়ার কাজের শিডিউল ফাঁকা ছিল। কিন্তু বিশেষ এক কারণে অক্টোবরের বিয়ে এগিয়ে আসে জুনে। গত বছর একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনা বলেন জয়া বচ্চন। 

জয়া বচ্চন জানান, ‘জঞ্জির’ সিনেমার সাফল্যের পর সবাই মিলে লন্ডন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। এই সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অমিতাভ-জয়া। ভ্রমণের জন্য বিমানের টিকিটও কেটে ফেলেন তাঁরা। পরদিন রাতে ফ্লাইট। কিন্তু ভ্রমণের এক দিন আগেই বাদ সাধেন অমিতাভের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন। তাঁর কথা, বিয়ের আগে জয়ার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণে যাওয়া যাবে না। 

শেষ পর্যন্ত মা-বাবার কথা রাখতেই পরদিন সকালেই পুরোহিত ডেকে কয়েকজন বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে সাধারণভাবেই বিয়ে করে নেন অমিতাভ-জয়া। বিয়ে করে রাতেই লন্ডনের উদ্দেশে বিমানে চড়ে বসেন অমিতাভ-জয়া।

অমিতাভ-জয়ার ৫০ তম বিবাহবার্ষিকীতে ভক্তরা শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন এ দম্পতিকে। এই তালিকায় আছেন মেয়ে শ্বেতা বচ্চনও। তবে তিনি মা-বাবার এক রহস্য ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, মা-বাবার কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন সংসার টিকিয়ে রাখার মূলমন্ত্র। জয়া বচ্চন শ্বেতার এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘প্রেম-ভালোবাসা।’ কিন্তু অমিতাভ বললেন আরেক কথা। অমিতাভের কথায়, ‘স্ত্রীরা সব সময় সঠিক। এটাই সুখী সংসারের মূলমন্ত্র।