১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:১১

নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতন, প্রশ্নফাঁস সহ ১৬ অভিযোগ 

অধ্যাপক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিক  © টিডিসি ফটো

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিকের বিরুদ্ধে মার্ক টেম্পারিং, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতন করাসহ ১৬টি অভিযোগ তুলেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১৪ আগস্ট) শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বরাবর শিক্ষা বিভাগ ২০১৭-১৮ বর্ষের ১৮ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। 

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ছাত্রীদের রাত ৮টা পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে থাকতে বাধ্য করা, মৌখিক পরীক্ষায় অশালীন প্রশ্ন করা, রেজাল্ট শীট শিক্ষার্থীদের দিয়ে তৈরি, শ্রেণীকক্ষের চেয়ে শিক্ষকের কক্ষ রেজাল্ট উন্নত করে ক্লাসেই এমন মন্তব্য করা, পরীক্ষার হলে পছন্দের শিক্ষার্থীদের অনৈকিত সুবিধা প্রদান, শ্রেণীকক্ষ এবং পরীক্ষার হলে লাঞ্ছিত হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চিন্তা, শিক্ষকের কক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থী এবং কক্ষে সময় না দেয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল তফাৎ।

এছাড়া আরো অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছে বিভাগের শিক্ষক এমনকি চেয়ারম্যানকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা, পছন্দের শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে পক্ষপাতিত্ব করা, ভাইবা প্রেজেন্টেশনে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে শিক্ষার্থীদের অপমান-অপদস্ত করা, বোরকা পরায় শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, একাধিক কোর্স নেওয়ার ফলে অধিক স্বেচ্ছাচারি আচরণ, নিজ ইচ্ছেমত নম্বর বন্টণ, পরীক্ষার হলেই এমসিকিউর উত্তরপত্র মূল্যয়ন ও ফলাফল প্রকাশ এবং এর ভিত্তিতে পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের বিরুপ মন্তব্য করা, প্রশ্নপত্র সরবরাহ, আইকিএসি কর্তৃক শিক্ষক মূল্যয়ন প্রোগ্রামে পজিটিভ মার্কিং এর জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন।

আরও পড়ুনঃ এবার গুলিস্তানে ক্রেন থেকে রড পড়ে আহত ৫

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের প্রথম ব্যাচের ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগের বেশিরভাগ মেয়েই এই শিক্ষকের দ্বারা হেনস্তার শিকার। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্রী অভিভাবকতুল্য শিক্ষক দ্বারা হেনেস্তার শিকার হবে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।

বিভাগের ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'মার্ক টেম্পারিং ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন ও অনৈতিক ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয় অনেক আগের হলেও এটি এখন মাত্রা ছড়িয়ে গেছে। আমরা আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা চাই উনাকে যেন বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযোগ সমূহ অস্বীকার করে শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিক বলেন, সবসময় আগস্ট মাসেই যেন এসব মিথ্যে ষড়যন্ত্রগুলো বেশি হয়। আজকে জাতীয় শোক দিবসে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমাকে অপমান করা হয়েছে। প্রত্যেকটি কোর্সে দুইজন পরীক্ষাক থাকেন, তাদের নম্বরে তফাৎ থাকলে উত্তরপত্রটি ৩য় পরীক্ষককে দিয়ে পূনঃমূল্যয়ন করা হয়। একইভাবে প্রত্যেক কোর্সে দুইজন পরীক্ষক দুইটা প্রশ্ন করে বিভাগে জমা দেন, পরবর্তীতে মডারেশন করে নিয়মানুযায়ী বিভাগ সেগুলো পরীক্ষার হলে পাঠায়। এছাড়া আমার অফিস কক্ষে অন্য যে শিক্ষকরা থাকেন তারা জানেন আমার সম্পর্কে। এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। 

তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমার ধারণা ভিন্ন মহল ভিন্ন কোন সুবিধা নেওয়ার জন্য ওই ১৮ জন শিক্ষার্থীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করেছে। আমি শুনেছি বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এই অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকলে কোন শিক্ষার্থী এভাবে আমার পক্ষে অবস্থান নিতো না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান বিপ্লব মল্লিক বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি গঠন ও তদন্তের পূর্বে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, ‘আমাদের কাছে এ সম্পর্কিত একটি অভিযোগপত্র এসেছে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। আমরা উপাচার্য স্যারের সাথে বসে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই অভিযোগটি যাচাই করে দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে সোমবার বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরে অনুষদের ডিন বরাবর দেয়া আরেকটি পাল্টা অভিযোগে দাবী করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তারা বলেন, এসব অভিযোগ কিছু শিক্ষার্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করেছে। 

পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ দিদার-উল-আলম বলেন, এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় জিরো টলারেন্স। আমরা তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি যাচাই করে দেখব। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।