একমাস পর শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
প্রায় একমাস পর শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৭ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসা শুরু করে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। বাসে করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে করেও আসতে দেখা গেছে। ক্যাম্পাসে এসে কেউ ক্লাসে, কেউবা আবার বন্ধুদের সঙ্গে টং দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।
একাডেমিক ভবনগুলোর কয়েকটি বিভাগে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে দেখা যায়। অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল চলমান থাকায় বিশেষ করে প্রায় প্রতিটি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে দেখা যায়। সবমিলিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার ক্যাম্পাস খোলায় শিক্ষার্থীদের আগমনে বিশ্ববিদ্যালয় সরগরম হয়ে ওঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অভি বলেন, বন্যা ও ঈদে প্রায় একমাস ছুটি কাটিয়ে যখন ক্লাসে ফিরতে পারলাম তখন পরিচিত মুখগুলো দেখে ভালো লাগছে। একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলাম।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা সংকট কাটিয়ে আমরা আবার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দিতে পারছি। এটা আমাদের কাছে খুব ভালো লাগছে। এতে একাডেমিক কাজে আবার গতিশীলতা ফিরে আসবে। প্রথম বর্ষের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বর্ষের চলমান পরীক্ষা খুব দ্রুত নেওয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে তাদের পরীক্ষা রুটিন দেওয়া হয়েছে।
ভারি বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা নদীর পানি উপচে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। ফলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এতে বিপাকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বন্যার সংকট মোকাবিলায় ১৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ২৫ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে হল ছেড়ে বাড়িতে চলে যান। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ২২ জুন পুনরায় জরুরি সিন্ডিকেট সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভেবে ঈদের ছুটি সহ ১৬ জুলাই পর্যন্ত আবারও ২১ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।