২৫ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৪৩

অনশনের ১৫০ ঘণ্টা, হাসপাতালে ১৯ অনশনকারী

শাবিপ্রবিতে অনশন  © সংগৃহীত

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনশন-আন্দোলন চলছে। গত বুধবার থেকে  টানা ছয় দিনেরও বেশি সময় (প্রায় ১৫০ ঘণ্টা) ধরে চলা অনশনে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ও কয়েকজন অনশনস্থলেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবু অনশন ভাঙেননি একজনও। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শুরু থেকেই অবস্থান নিয়ে আছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনরতদের জন্য শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন, সেই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে বিচলিত নন শিক্ষার্থীরা। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশন পালন করছেন ৯ শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে অনশন পালন করতে গিয়ে অসুস্থ হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও ১৯ শিক্ষার্থী।

অনশনস্থলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দল। ওই দলের চিকিৎসক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘অনশন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরই প্রেসার বেশি-কম হওয়ার পাশাপাশি শরীরের গ্লুকোজ কমে গেছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সার্বিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যাদের শরীর বেশি খারাপ হচ্ছে, তাদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবি না মেনে নেওয়ার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাই ব্যর্থ উপাচার্যের পদত্যাগ। তিনি আমাদের অভিভাবকতুল্য হলেও কোনও সহযোগিতা পাইনি। বরং আমাদের পুলিশ দিয়ে মারধর করেছে। এ আন্দোলনে বহিরাগতদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

তিনি দাবি করেন, শুরুর দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। এখন সেই পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবু আমরা আমাদের দাবি থেকে সরে আসবো না।

আন্দোলনকারী এই শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে করা অনশনরত ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ৯ শিক্ষার্থী। তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং অনশনস্থলেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্দোলনরতদের জন্য ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট, তিনটি বিকাশ, একটি রকেট ও একটি নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা আসতো। প্রতিদিন সব মিলিয়ে লাখের মতো টাকা আসতো। সেই টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের খাবার ও আন্দোলনের সব খরচ করা হতো। সোমবার থেকে সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে বিকাশসহ নগদ ও রকেটের কল সেন্টারে যোগাযোগ করলেও কোনও সদুত্তর পাননি।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, আমাদের আর্থিক লেনদেনের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র বলে আমি মনে করি। তবে এসব করে কোনও লাভ হবে না। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো এবং সফল হবো।