করোনার গঠনে ছয়টি পরিবর্তন পেয়েছেন শাবিপ্রবির বিজ্ঞানীরা
কোভিড-১৯ রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি করোনাভাইরাসের মিউটেশনের গতি প্রকৃতি, বিস্তার, উপত্তিস্থল ও বৈচিত্র্য জানতে গবেষণা করছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের একটি টিম। সে অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চারটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের জিন বিন্যাস (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন গবেষকরা।
এতে সম্পূর্ণ ছয় ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের সন্ধান পেয়েছে তারা। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এ তথ্য উপস্থাপন করেন জিইবি বিভাগের প্রভাষক জি এম নূর নবী আজাদ জুয়েল। তিনি বলেন, গবেষণায় ভাইরাসের জিনোম কাঠামোতে মোট ৭৯টি মিউটেশেন পাওয়া যায়। প্রোটিন লেভেলে মোট ৪৭টি মিউটেশন পাওয়া যায়, যার মধ্যে ছয়টি বর্তমান বিশ্বে সম্পূর্ণ নতুন, ২৪টি বাংলাদেশের জন্য নতুন এবং বাকি ১৭টি আক্রান্ত দেশগুলোর মাঝে কমন।
তিনি জানান, ৪৭টি মিউটেশনের মধ্যে তিনটি মিউটেশন সবগুলো নমুনাতেই পাওয়া যায়। নমুনাগুলোর মধ্যে কোন ইউকে মিউটেন্ট পাওয়া যায়নি। তবে একই পজিশনে ভিন্ন মিউটেশন পাওয়া যায়। তাছাড়া দুটি ভাইরাসের জিনোমে নতুন একটি মিউটেশন পাওয়া যায়, যা পূর্বে কোথাও দেখা যায়নি।
গবেষণা দলটি গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সিলেটের চারটি জেলা থেকে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে জিন বিন্যাস (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-৫ ও হবিগঞ্জ-৫ এলাকা থেকে উন্মোচিত ১০টি নমুনার জিন বিন্যাস গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটাবেইজে জমা দেয় যা গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় । এটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের ধরণ জানতে এবং ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণায় কাজে আসবে বলে জানিয়েছে দলটি।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকদের এ গবেষণায় আমরা গর্বিত। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের মানুষের পাশে ছিল। আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। করোনা শনাক্তকরণ কার্যক্রমে যাতে ব্যঘাত না হয় সেজন্য আরো একটি মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্সের জন্য নতুন মেশিন ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষাদান নয়, বরং গবেষণার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। এসব বিষয়ে লক্ষ্য রেখেই গবেষণা খাতে এবার সাত গুণের বেশি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’