থমকে আছে বশেমুরবিপ্রবির অনলাইন ক্লাস

বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস
বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস  © ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত ১ জুলাই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩১টি বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু করেছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনটি বিভাগ এবং একটি ইনস্টিটিউট পরীক্ষামূলক অনলাইন ক্লাসে অংশ নেয়নি। এছাড়া যেসব বিভাগে পরীক্ষামূলক অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থী সংকটে সেসব বিভাগেও ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনলাইন ক্লাস শুরুর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো ৪০-৬০ শতাংশ। মূলত আর্থিক সমস্যা, ডিভাইস না থাকা এবং গ্রামে দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছিলো না। আর এসকল দিক বিবেচনা করে বিভাগগুলোর পক্ষে অনলাইন ক্লাস অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সালেহ আহমেদ বলেন, “আমরা কিছুদিন পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে ক্লাস নিয়েছিলাম। কিন্তু ডিভাইস সমস্যা, নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং আর্থিক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক অনুপস্থিত ছিলো। ইতিমধ্যে সমস্যাগুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং এর প্রেক্ষিতে তাদের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছি।”

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. লুৎফুল কবির বলেন, “অনলাইন ক্লাস মূলত শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারছিলো না। তাই আমরা আপাতত অনলাইন ক্লাস নিচ্ছি না এবং সমস্যাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা পেলে আমরা আবারও অনলাইন ক্লাস শুরু করবো।”

শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিবুর রহমান বলেন, আমাদেরকে অনলাইন ক্লাস শুরুর জন্য কোনো লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে সাবেক উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) মৌখিক নির্দেশে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ক্লাস নিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো ৫০% এর মত।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারলে অনলাইন ক্লাস খুব একটা উপকারে আসবে না। তাই আমরা পরীক্ষামূলক ক্লাসগুলো থেকে পাওয়া তথ্য প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এছাড়া, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগসহ যে চারটি বিভাগের অনলাইন ক্লাস অব্যাহত রয়েছে তারাও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে বেশ ধীরগতিতেই এগুচ্ছে।

তবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে অনলাইন ক্লাস শুরুর দিকে মনোযোগী হওয়া। বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল খান বলেন, “অনলাইন ক্লাস দ্রুত শুরু করা উচিত। কারণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়ছি।”

উজ্জ্বল বলেন, “শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রামীণফোনের বিশেষ ইন্টারনেটে প্যাকেজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারণ টেলিটক সিমে প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এস. এম আসিফ সিদ্দিক বলেন, “করোনা মহামারি কাটিয়ে সব কিছু স্বাভাবিক হওয়া শুরু করলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার। তবে অনলাইনে ক্লাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস ও ডাটা এর ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসবের স্বল্পতায় যেসব শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “সকল বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করে আমরা শীঘ্রই অনলাইন ক্লাস শুরু করবো। আর কোনো মোবাইল অপারেটরের সাথে চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ডাটাপ্যাকের ব্যবস্থা করা যায় কি না এটিও ভেবে দেখবো।”


সর্বশেষ সংবাদ