০৮ মার্চ ২০২০, ১৬:১৯

বশেমুরবিপ্রবিতে ছয় ইঞ্চি জায়গাকে কেন্দ্র করে আহত ২০

  © টিডিসি ফটো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ক্লাসরুমের ৬ ইঞ্চি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং এপ্লাইড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে।

আজ দুপুর ১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ৪২০ নং রুমকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়। আহত ২০ জনের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দুজন শিক্ষক, দশজন শিক্ষার্থী এবং এসিসিই বিভাগের পাচঁজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছারা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সুকান্ত সরকার আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত প্রভাষক আরাফাত রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, "আমাদের অফিসরুম এবং এসিসিই বিভাগের ক্লাসরুমের মাঝে একটা কাঠের পার্টিশন ছিলো। গত সপ্তাহে আমরা কাঠের পার্টিশন সরিয়ে যখন গ্লাস লাগাতে যাই তখন আমাদের সাইডে ভুলবশত ছয় ইঞ্চি বেশি জায়গা চলে আসে। আমরা বিষয়টি এসিসিই এর চেয়ারম্যানকে জানাই এবং দুঃখ প্রকাশ করি, সেই সাথে এসিসিই এর ক্লাসরুমের চেয়ার টেবিল ও সাজিয়ে দিয়ে আসি। এরপরে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ক্লাস ও করেছে কিন্তু আজ হঠাৎ ই এসিসিই এর শিক্ষার্থীরা আমাদের অফিস সহকারীকে রুমে প্রবেশ বাঁধা দেয় এবং বিষয়টির সমাধান দাবি করে। পরবর্তীতে আমাদের আরেক জন শিক্ষক অফিসরুমে গেলে তার সামনেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরন করে।"

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমাদের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা সংগ্রহের বিষয়ে আমরা দুপুর ১ টার দিকে স্যারদের সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে ৪২০ নং রুমে যাই। এসময় এসিসিই শিক্ষার্থীরা আমাদের সাথে রুম দখলকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের শিক্ষক থালাকালীন অবস্থায়ই আমাদের অফিস-রুম ভাঙচুর করে। এসময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আমাদের দুজন শিক্ষক আহত হয়।"

এ বিষয়ে এসিসিই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ কামরুজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, "সাবেক উপাচার্যের সময়ে আমাদের ৪ তলার এক পাশের সম্পূর্ণ ব্লক বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু অন্য বিভাগগুলোর ক্লাসরুম সংকটের কারণে আমরা আমাদের কয়েকটি রুম অন্যান্য বিভাগের সাথে শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নেই। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগকে ৪২০ নং রুমের একটি অংশ দেয়া হয়েছিলো। সম্প্রতি তারা ক্লাসরুমে অতিরিক্ত শব্দের কারণে কাঠের পার্টিশনের স্থলে কাঁচের পার্টিশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে আমাদের কোনো সমস্যা ছিলোনা কিন্তু তারা আমাদের অনুমতি ছাড়াই তাদের অফিসরুম বর্ধিত করে। এতে আমাদের ক্লাসরুমের জায়গা কমে যায় এবং শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ক্লাস করতে পারছিলোনা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানালে আমি বিষয়টি আজ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। কিন্তু আজ দুপুরে হঠাৎ ই আই আর বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৪২০ নং রুমের সামনে এসে জড়ে হতে থাকে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান জানান, "আমাদের দুই বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা হয়েছে,বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।