ফাল্গুনে আগুনঝরা: পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বসন্তের রঙিন ছোঁয়া
ফাল্গুন মাসের আগমনেই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস যেন এক রঙিন উৎসবে সেজে ওঠে। ডালিয়া, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া ও গান্দার আগুনঝরা ফুল ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণকে মনোমুগ্ধকর সাজে মোড়ানো থাকে। এই বসন্তের রঙিন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগায়, ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মধ্যেও স্বস্তির মুহূর্ত উপহার দেয়।
গত বছরগুলো থেকে এ বছর বসন্তের এই সময়টাতে ভিন্নরূপে সেজে উঠেছে পাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়টি পাবনা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রাজাপুরে অবস্থিত। পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ঢুকলেই চোখে পড়বে উঁচু উঁচু দালান। কিন্তু এর মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে শত শত ফুল গাছ আর আছে গুটি কয়েক বড় গাছ। গাছগুলোতে বিভিন্ন পাখির বসবাস। উঁচু উঁচু দালানসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ বুকে ধারণ করে প্রকৃতির বুকে এক খণ্ড ভূমি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ সৌন্দর্য মন কারে সব ক্যাম্পাসপ্রেমীদের।
প্রকৃতির আপন খেয়ালে ফাল্গুন মাসের শুরু থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে ফুল ফোটে। লাল-কমলা রঙের শিমুল আর গান্দা ফুল গাছগুলোর ডালে ডালে আগুনের শিখার মতো ফুটে থাকা ফুলগুলো এক অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। গাছের নিচে জমে থাকা লালচে-কমলা পাপড়ি পথচারীদের পথচলাকে আরও নান্দনিক করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের বাগানে দেখা মিলবে ইনকা গান্দা, স্টার, চন্দ্রমল্লিকা, ডেনথাচ, জবা আর গোলাপ ফুল। এর সামনে গেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফুটে আছে লিলভিয়া, কুইন সুপার আর ইনকা গান্দা। নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফুটে আছে পিটুনিয়া, ইনকা গান্দা, কুইন সুপার। নতুন একাডেমিক ভবনের সামনে আছে ইনকা গান্দা আর কুইন সুপার। এলিভেটরের ওপরে আছে ইনকা গান্দা। ক্যাফেটেরিয়ার সামনে লাগানো হয়েছে টগর আর ইনকা গান্দা।
ফাগুন মানেই পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য এক অন্য রকম অনুভূতি। বসন্তের আগমন উদযাপন করতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। কেউ ক্যামেরায় বন্দি করে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কেউ বা বন্ধুদের সঙ্গে বসন্তের আবহে হারিয়ে যায় আড্ডার মেলায়।
শীতের শেষে এই বসন্তের উষ্ণতা যেমন প্রকৃতিকে নতুন করে সাজায়, তেমনি পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মনেও আনে প্রশান্তি। ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ এনে দেয় এই বসন্তের রঙ। ক্যাম্পাসের লেকের পাশে বসে বা গ্রিন ভিউতে সময় কাটানো যেন এক ধরনের মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে।
প্রকৃতির এই রূপবদল যেন বার্তা দেয় নতুন করে জেগে ওঠার, পুরোনো গ্লানি ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের এই আগুনঝরা সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতির নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনেও নতুন উজ্জ্বল সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে ওঠে।
ইইসিই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন বলেন, ‘বসন্তের আগমনের সাথে সাথেই আমাদের ৩০ একরের পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রঙিন হয়ে উঠেছে। চারপাশের নানা রঙের ফুল যেন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে আরো বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। লালচে কমলা রঙের পলাশ ফুলগুলো যেন সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এ সময় গাছের পুরোনো পাতাঝরে গিয়ে নতুন পাতা গজায়, যা নতুন কিছু শুরু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।’
আরেক শিক্ষার্থী আহিদুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘রং, গন্ধ আর সৌন্দর্যের অপার মহিমা যেন এক স্বর্গীয় আলোকছটা নেমে এসেছে আমাদের ক্যাম্পাসের এই ছোট আঙিনায়। যদিও বিশাল অরণ্যের দাপট এখানে নেই, তবু যে যতটুকু আছে, সেটুকু দিয়েই ক্যাম্পাস এখন যেন এক টুকরো স্বর্গ! শুরুতে যখন আমরা ক্যাম্পাসে আসি তখন মনে অনেক কথা জমে ছিলো কিন্তু এখন ক্যাম্পাসে ঢুকলেই যেন নিমিষেই মনটা ভালো হয়ে যায়।’