সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, ডুয়েটে আইসিটি ইনকিউবেটর গড়বে বিটোপিয়া
প্রকৌশল শিক্ষাকে সরাসরি শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত করতে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) আধুনিক আইসিটি ইনকিউবেটর গড়ে তুলবে বিটোপিয়া গ্রুপ। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ডুয়েট ও বিটোপিয়া গ্রুপের (আইসিটি লিমিটেড) মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য দেশেই কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি অন্যদিকে গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে ওঠার একটি টেকসই পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডুয়েট সভাকক্ষে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডুয়েটের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব এবং বিটোপিয়া গ্রুপের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মনির হোসাইন। এসময় ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় ডুয়েট ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিটি ইনকিউবেটরটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘নার্সারি’ হিসেবে কাজ করবে। যেখানে শিক্ষার্থীদের গবেষণা আইডিয়া, থিসিস কিংবা উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল গাইডলাইন প্রদান করা হবে। এছাড়াও চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি মেগা প্রকল্পে ডুয়েট এক্সিকিউশন ডিপার্টমেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ট্রেনিং ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তবে সময়ের বাস্তবতায় এখন শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তিকে একটি বাস্তব ও টেকসই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হল।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিত সেমিনার, প্রদর্শনী ও শোকেসিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাজ শিল্পখাত ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
ডুয়েটের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ড. মো. আরেফিন কাওসার এই অংশীদারিত্বকে সময়োপযোগী ও উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় ভবিষ্যতে আইসিটি ইনকিউবেটর ছাড়াও বড় আকারের প্রকল্পে আলাদা চুক্তির মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিটোপিয়া গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ডুয়েটের সঙ্গে এই সংযুক্তি তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে গৌরবের বিষয়। ১৫ বছরের কর্পোরেট ও প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ডুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও বৈশ্বিক শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত করতে চান।
তিনি আরও জানান, আইসিটি ইনকিউবেটর সেন্টারের একটি নির্দিষ্ট ফ্লোর শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে, যেখানে তারা রিয়েল-টাইম কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে। আইসিটির পাশাপাশি সিভিল, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিডিকলিং এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য দেশেই টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। বর্তমানে বিটোপিয়া গ্রুপে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন কাজ করছেন এবং খুব শিগগিরই এই সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জানান, ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা যেন তৃতীয় বর্ষ থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপোজার পায় এবং চতুর্থ বর্ষ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আইসিটি ইনকিউবেটরের কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে লাভের চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরির দিকে বেশি গুরুত্ব দেবে। প্রথম কয়েক বছর ব্যবসায়িক লভ্যাংশ দাবি না করলেও ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে যুক্ত হবে। এই মডেলটি সফল হলে দেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগম, মেটেরিয়ালস এন্ড মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ, আইসিটি সেলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফজলুল হাসান সিদ্দিকী প্রমুখ। বিটোপিয়া গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপটির প্রশাসন ও আইন শাখার প্রধান মো. রেজাউল করিম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মো. সাজেদুল ইসলাম এবং চীফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার মোহা. আশরাফুল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।