২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮

মাভাবিপ্রবি হল থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মুখে মাস্ক পরিহিত সন্দেহভাজন ব্যক্তির হলে প্রবেশ ও বের হয়ে যাওয়া  © সংগৃহীত

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আবাসিক হলে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। শেখ রাসেল হল (প্রস্তাবিত শহিদ আবরার ফাহাদ হল) থেকে দুই বিদেশি শিক্ষার্থীর দুটি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ চুরির ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী নেপালের নাগরিক আকরাম আনসারী ও নাইয়ার আশফাক।

হলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো পাঞ্জাবির ওপর জ্যাকেট ও মুখে মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হলে প্রবেশ করেন। পরে তিনি সরাসরি তৃতীয় তলার ৩০৭ নম্বর কক্ষে ঢুকে দুটি ল্যাপটপ নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল একই হল থেকে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. হেনামুল ইসলাম হিমুর একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। ওই ঘটনারও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

হলের একাধিক চুরির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই ব্যক্তি এসব ল্যাপটপ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ ছাড়া চোরের হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। জানা গেছে, চুরির সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।

এদিকে বিগত বছরগুলোতে জননেতা আব্দুল মান্নান হলসহ অন্যান্য আবাসিক হল থেকেও ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ভবন থেকে শতাধিক পানির ট্যাপ ও সাইকেল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শেখ রাসেল হলের (প্রস্তাবিত শহিদ আবরার ফাহাদ হল) প্রভোস্ট মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, চুরির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ নিয়ে জরুরি নিরীক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে লিখিত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বারবার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে সিসিটিভির সংখ্যা বাড়ানো, জান-মালের উপর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা রাজ্জাক জানান, এখনো তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তি মুখোশ পরিহিত থাকায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।