আন্দোলনরত হাবিপ্রবি শিক্ষকদের ভর্তি পরীক্ষা বয়কট
নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রায় ৬০ জন সহকারী অধ্যাপক ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিলেও আগামী রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা।
হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরীক্ষা গ্রহণে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না। এদিকে হাবিপ্রবিতে টানা দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণে বিরত থেকে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।
হাবিপ্রবি’র রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ ছিলো ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর। অনিবার্য কারণবশত ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে ২০ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়েছে। কোনভাবেই আর পরীক্ষা পেছানো সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের আন্দোলন ও পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে একটা উৎসবের মতো। এই ভর্তি পরীক্ষায় সব শিক্ষকেরই অংশগ্রহণ থাকলে ভালো হতো। কিন্তু তারা যদি না আসে, তাহলে তো আর কিছু করার নেই। এরপরও ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে কোন সমস্যা হবে না। আর পরীক্ষার উত্তরপত্র মুল্যায়ন করা হবে মেশিন রিডেবল পদ্ধতিতে। তাই পরীক্ষার ফল ঘোষণা করতেও কোন সমস্যা হবে না। এ ব্যাপারে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরপরও তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ স্বার্থে শেষ পর্যন্ত সব শিক্ষকরাই ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেয়া পৃথক দু’টি চিঠিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। সংকটের সমাধান হলেই সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী রবিবার থেকে অনুষ্ঠিব্য ২০১৯ সালের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সব রকম প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। মোট ১৪০টি কক্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বও বন্টন করে দেয়া হয়েছে। আগামী রবিবার ‘জি’ ও ‘সি’ ইউনিটের, ২১ জানুয়ারি সোমবার ‘এফ’ ও ‘সি’ ইউনিটের, ২২ জানুয়ারী মঙ্গলবার ‘বি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের এবং ২৩ জানুয়ারী বুধবার ‘এ’ ও ‘ই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই ভর্তি পরীক্ষায় হাবিপ্রবি’র ২০০৫টি আসনে ভর্তির জন্য অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ১২ হাজার ১৯২ জন।
এদিকে দেশের ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ওরিয়েন্টেশন শেষে ইতিমধ্যে তাদের ক্লাসও শুরু হয়েছে। কিন্তু হাবিপ্রবিতে সংকটাবস্থার কারণে এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি ভর্তি পরীক্ষা। ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিলো গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু ১৪ নভেম্বর থেকে অব্যাহত শিক্ষক আন্দোলনের ফলে ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত ও নারী শিক্ষিকদের শ্লীলতাহানিকারীদের বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে নামে হাবিপ্রবি’র প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। এতে গত ২ মাসেরও অধিক সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড়’শ শিক্ষক আন্দোলনে থাকায় অধিকাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।