১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫২

তিন দফায় বাড়ল ডাইনিং ফি, বাড়েনি খাবারের গুণগুত মান

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং ফি গত দশ মাসে তিন দফা বেড়েছে। ১৫০০ টাকা থেকে ফি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০০ টাকায়। কিন্তু আবাসিক হলগুলোর খাবারের খরচের পরিমাণ বাড়লেও বাড়েনি খাবারের গুনগত মান। 

গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) চুয়েটের শেখ রাসেল হলের নতুন মাসের ডাইনিং ফি'র একটি নতুন নোটিশ প্রকাশিত হবার পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নির্দেশে প্রকাশিত নোটিশটিতে নতুন মাসের ডাইনিং ফি ২১০০ টাকা থেকে ২৪০০ টাকা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। হুট করে ডাইনিং ফি বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়া এ ফি বৃদ্ধি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। 

করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের আগে অনেক বছর যাবৎ হলগুলোর ডাইনিং ফি'র পরিমাণ ১৫০০ টাকা ছিল। বন্ধের পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কারণ দেখিয়ে গত জানুয়ারি মাসে ডাইনিং ফির পরিমাণ বাড়িয়ে ১৮০০ টাকা করা হয়। এক মাস না পার হতেই  আবারও ফি বাড়িয়ে ২১০০ টাকা করা হয়। যেখানে প্রতি বেলা খাবার খরচ ২৫ টাকা থেকে ৩০ এরপর ৩৫ এবং পরিশেষে ৪০ টাকা বাড়ানো হয়। এভাবে দফায় দফায় খাবারের খরচ বাড়ালেও মানসম্মত খাবার পরিবেশনের দিকে উদাসীন প্রশাসন। আর এখানেই ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, খাবারের দাম বাড়লেও, খাবারের মানের উন্নতি হয়নি বরং আরো অবনতি হয়েছে। হল কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে উদাসীন। 

তবে ড. কুদরতে খুদা হলের সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান বলেন, হলের খাবারের মান ঠিক আছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করা হয়।

শেখ রাসেল হলে চলমান মাসের ডাইনিং ম্যানেজার বলেন, সারাদেশে যে হারে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে, চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে তার চেয়ে বেশি বাড়ে। স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারণে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে খাবার কিনতে হয়। তাই বারবার ফি বাড়িয়েও দামের সাথে সামঞ্জস্য করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে চুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েই চলেছে। তাই আগের খরচে ডাইনিং পরিচালনা সম্ভব হচ্ছিল না। সেজন্য খরচের নিমিত্তে ডাইনিং ফি বাড়ানো হয়েছে। খাবারের মানের বিষয়টিও আমরা নজর দিয়েছি, গুণগত মান বাড়ানো হবে।

প্রসঙ্গত, দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে খাবারের উপর ভর্তুকি দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়। কিন্তু চুয়েটে হলগুলোর ডাইনিং এ এমন কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় না বলে জানা গেছে। চুয়েটে ছাত্রদের জন্য ৫ টি এবং ছাত্রীদের জন্য ২ টি আবাসিক হলে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করেন।